প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (তৃতীয় খণ্ড).djvu/১৯০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


●00 গল্পগুচ্ছ “আমি বেশ জানছি, আমার দিন শেষ হয়ে এসেছে। কিন্তু, আমার মনে কোনো খেদ নেই। তুমি আমার জন্যে শোক কোরো না।” r “না বাবা, আমি শোক করব না। জীবনেই যে মঙ্গল আর মরণে যে নয় এ কথা আমি মনে করি নে ৷” “মাসি, তোমাকে সত্য বলছি, মৃত্যুকে আমার মধর মনে হচ্ছে।” অন্ধকার আকাশের দিকে তাকাইয়া যতীন দেখিতেছিল, তাহার মণিই আজ মৃত্যুর বেশ ধরিয়া আসিয়া দাঁড়াইয়াছে। সে আজ অক্ষয় যৌবনে পাণ—সে গহিণী, সে জননী; সে রুপসী, সে কল্যাণী। তাহারই এলোচুলের উপরে ঐ আকাশের তারাগলি লক্ষীর স্বহস্তের আশীবাদের মালা। তাহাদের দুজনের মাথার উপরে এই অন্ধকারের মঙ্গলবস্ত্রখানি মেলিয়া ধরিয়া আবার যেন নতন করিয়া শভেদটি হইল। রাত্রির এই বিপলে অন্ধকার ভরিয়া গেল মণির অনিমেষ প্রেমের দটিপাতে। এই ঘরের বধ মণি, এই একটুখানি মণি, আজ বিশবরপ ধরিল; জীবনমরণের সংগমতীথে ঐ নক্ষত্ৰবেদীর উপরে সে বসিল; নিস্তব্ধ রাত্রি মঙ্গলঘটের মতো পণ্যেধারায় ভরিয়া উঠিল। যতীন জোড়হাত করিয়া মনে মনে কহিল, এত দিনের পর ঘোমটা খলিল, এই ঘোর অন্ধকারের মধ্যে আবরণ ঘনচিল। অনেক কাঁদাইয়াছ— সন্দের, হে সন্দের, তুমি আর ফাঁকি দিতে পরিবে না। “কট হচ্ছে মাসি, কিন্তু যত কষ্ট মনে করছ তার কিছুই নয়। আমার সঙ্গে আমার কন্টের ক্রমশই যেন বিচ্ছেদ হয়ে আসছে। বোঝাই নৌকার মতো এতদিন সে আমার জীবন-জাহাজের সঙ্গে বাঁধা ছিল; আজ যেন বাঁধন কাটা পড়েছে, সে আমার সব বোঝা নিয়ে দরে ভেসে চলল। এখনও তাকে দেখতে পাচ্ছি, কিন্তু তাকে যেন আর আমার বলে মনে হচ্ছে না—এ দুদিন মণিকে একবারও দেখি নি, মাসি।” "পিঠের কাছে আর-একটা বালিশ দেব কি যতীন।” “আমার মনে হচ্ছে মাসি, মণিও যেন চলে গেছে। আমার বাঁধন-ছোড়া দুঃখের নৌকাটির মতো।” “বাবা, একটা বেদানার রস খাও, তোমার গলা শুকিয়ে আসছে।” “আমার উইলটা কাল লেখা হয়ে গেছে—সে কি আমি তোমাকে দেখিয়েছি— ঠিক মনে পড়ছে না।” “আমার দেখবার দরকার নেই, যতীন।” “মা যখন মারা যান আমার তো কিছুই ছিল না। তোমার খেয়ে তোমার হাতে আমি মানবে। তাই বলছিলম—” “সে আবার কী কথা। তোমার তো কেবল এই একখানা বাড়ি আর সামান্য কিছ সম্পত্তি ছিল। বাকি সবই তো তোমার নিজের রোজগার।” “কিন্তু, এই বাড়িটা—” “কিসের বাড়ি আমার! কত দালান তুমি বাড়িয়েছ, আমার সেটকু কোথায় খজেই পাওয়া যায় না।” -