প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (তৃতীয় খণ্ড).djvu/২৫০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


* 90 গল্পগুচ্ছ । কিন্তু আজ ঘরের কোণে এই-যে অখ্যাত হাতের মানটুকু পেলেম এ আমার হদয়ে এসে বাজল। নিস্ত্রৈগণ্য হবার উমেদার, এই জেল-খাটা পরষের বহন কালের শকেনো চোখ ভিজে ওঠবার উপক্রম করলে। পবেই বলেছি, সেবায় আমার অভ্যেস নাই। কেউ পা টিপে দিতে এলে ভালোই লাগত না, ধমকে তাড়িয়ে দিতেম। আজ এই সেবা প্রত্যাখ্যান করার স্পধর্ণ মনেও উদয় হল না। খলনা জেলায় পিসিমার আদি শবশরেবাড়ি। সেখানকার গ্রামসম্পকের দটিচারটি মেয়েকে পিসিমা আনিয়ে রেখেছেন। পিসিমার কাজকমে পজা-অৰ্চনায় তারা ছিল তাঁর সহকারিণী। তাঁর নানারকম ক্লিয়াকমে তাদের না হলে তাঁর চলত না। এ বাড়িতে আর সবারই অমিয়ার অধিকার ছিল, কেবল পুজোর ঘরে না। অমিয়া তার কারণ জানত না, জানবার চেষ্টাও করত না । পিসিমার মনে ছিল, অমিয়া ভালোরকম লেখাপড়া শিখে এমন ঘরে বিয়ে করবে যেখানে আচার-বিচারের বাঁধাবধি নেই, আর দেববিজ যেখান থেকে খাতির না পেয়ে শান্য হাতে ফিরে আসেন। এটা আক্ষেপের কথা। কিন্তু, এ ছাড়া ওর আর-কোনো গতি হতেই পারে না-বাপের পাতক থেকে মেয়েকে সম্পণে বাঁচাবে কে। সেই কারণে অমিয়াকে তিনি ঢিলেমির ঢাল তট বেয়ে আধুনিক আচারহীনতার মধ্যে উত্তীণ হতে বাধা দেন নি। ছেলেবেলা থেকে অঙ্কে আর ইংরেজিতে ক্লাসে সে হয়েছে ফারস্ট। বছরে বছরে মিশনারি ইস্কুল থেকে ফ্রক পরে বেণী দলিয়ে চারটে-পাঁচটা করে প্রাইজ নিয়ে এসেছে। যেবারে দৈবাং পরীক্ষায় দ্বিতীয় হয়েছে সেবারে শোবার ঘরে দরজা বন্ধ করে কে’দে চোখ ফলিয়েছে; প্রায়োপবেশন করতে যায় আর-কি। এমনি করে পরীক্ষাদেবতার কাছে সিদ্ধির মানত করে সে তারই সাধনায় দীর্ঘকাল তন্ময় ছিল। অবশেষে অসহযোগের যোগিনীমন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে পরীক্ষাদেবীর বজন-সাধনাতেও সে প্রথম শ্রেণীতে উত্তীণ হল। পাস-গ্রহণেও যেমন পাস-ছেদনেও তেমনি, কিছতেই সে কারও চেয়ে পিছিয়ে থাকবার মেয়ে নয়। পড়াশুনো করে তার ষে খ্যাতি— পড়াশুনো ছেড়ে তার চেয়ে খ্যাতি অনেক বেশি বেড়ে গেল। আজ যে-সব প্রাইজ তার হাতের কাছে ফিরছে তারা চলে, তারা বলে, তারা আশ্রসেলিলে গলে, তারা কবিতাও লেখে। বলা বাহুল্য, পিসিমার পাড়াগোয়ে পোষ্য মেয়েগুলির পরে অমিয়ার একটাও শ্রদ্ধা ছিল না। অন্যথাসদনে যে সময়ে চাঁদার টাকার চেয়ে অনাথারই অভাব বেশি সেই সময়ে এই মেয়েদের সেখানে পাঠাবার জন্যে পিসিমার কাছে অমিয়া আলেক আবেদন করেছে। পিসিমা বলেছেন, “সে কী কথা— এরা তো অনাথা নয়, আমি বেচে আছি কী করতে। অনাথ হোক সনাথ হোক, মেয়েরা চায় ঘর ; সদনের মধ্যে তাদের ছাপ মেরে বস্তাবন্দী করে রাখা কেন । তোমার যদি এতই দয়া থাকে তোমার शज्ञ zनई नाकि !” যা হোক, মেয়েটি যখন মাথা হে’ট ক’রে পায়ে হাত বলিয়ে দিচ্ছে, আমি সংকুচিত অথচ বিগলিতচিত্তে একখানা খবরের কাগজ মুখের সামনে ধরে বিজ্ঞাপনের উপর চোখ বলিয়ে যেতে লাগলেম। এমন সময় হঠাৎ অকালে অমিয়া ঘরের মধ্যে এসে উপস্থিত; নবযুগের উপযোগী ভাইফোঁটার একটা নতন ব্যাখ্যা সে লিখেছে। সেইটে ইংরেজিতেও সে প্রচার করতে চায়; আমার কাছে তারই সাহায্য আবশ্যক। এই লেখাটির ওরিজিনাল আইডিয়াতে ভক্তদল খাব বিচলিত-এই নিয়ে তারা একটা