প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৩৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গুপ্তধন ®8ጓ:: মৃত্যুঞ্জয় যখন শিশু ছিল, যখন তাহার পিতামহ হরিহর একদিন এই চণ্ডীমণ্ডপে বসিয়া তামাক খাইতেছিল, তখন এমনি করিয়াই একটি সন্ন্যাসী ‘জয় হোক বাবা’ বলিয়া এই প্রাঙ্গণে আসিয়া দাঁড়াইয়াছিলেন । হরিহর সেই সন্ন্যাসীকে কয়েকদিন বাড়িতে রাখিয়া বিধিমতো সেবার বারা সন্তুষ্ট করিল। বিদায়কালে সন্ন্যাসী যখন জিজ্ঞাসা করিলেন “বৎস, তুমি কী চাও", হরিহর কহিল, “বাবা, যদি সন্তুষ্ট হইয়া থাকেন তবে আমার অবস্থাটা একবার শনেন। এক কালে এই গ্রামে আমরা সকলের চেয়ে বধিষ্ণ ছিলাম। আমার প্রপিতামহ দরে হইতে কুলীন আনাইয়া তাঁহার এক কন্যার বিবাহ দিয়াছিলেন। তাঁহার সেই দৌহিরবংশ আমাদিগকেই ফাঁকি দিয়া আজকাল এই গ্রামে বড়োলোক হইয়া উঠিয়াছে । আমাদের এখন অবস্থা ভালো নয়, কাজেই ইহাদের অহংকার সহ্য করিয়া থাকি। কিন্তু, আর সহ্য হয় না। কী করিলে আবার আমাদের বংশ বড়ো হইয়া উঠিবে সেই উপায় বলিয়া দিন, সেই আশীবাদ করন।” সন্ন্যাসী ঈষৎ হাসিয়া কহিলেন, “বাবা, ছোটো হইয়া সখে থাকো। বড়ো হইবার চেন্টায় শ্রেয় দেখি না।" কিন্তু, হরিহর তব ছাড়িল না, বংশকে বড়ো করিবার জন্য সে সমস্ত স্বীকার করিতে রাজি আছে। তখন সন্ন্যাসী তাঁহার ঝলি হইতে কাপড়ে-মোড়া একটি তুলট কাগজের লিখন বাহির করিলেন। কাগজখানি দীঘ, কোষ্ঠীপত্রের মতো গটানো। সন্ন্যাসী সেটি মেজের উপরে খলিয়া ধরিলেন। হরিহর দেখিল, তাহাতে নানাপ্রকার চক্লে নানা সাংকেতিক চিহ্ন অাঁকা, আর, সকলের নিনে একটি প্রকাণ্ড ছড়া লেখা আছে তাহার আরম্ভটা এইরপ— পায়ে ধরে সাধা । রা নাহি দেয় রাধা। শেষে দিল রা, পাগোল ছাড়ো পা। তেতুল বটের কোলে দক্ষিণে যাও চলে ৷ ঈশানকোণে ঈশানী, কহে দিলাম নিশানী। ইত্যাদি। হরিহর কহিল, “বাবা, কিছই তো বুঝিলাম না।" সন্ন্যাসী কহিলেন, “কাছে রাখিয়া দাও, দেবীর পজা করো। তাঁহার প্রসাদে তোমার বংশে কেহ না কেহ এই লিখন বুঝিতে পরিবে। তখন সে এমন ঐশ্বৰ্য পাইবে জগতে যাহার তুলনা নাই।” হরিহর মিনতি করিয়া কহিল, “বাবা কি বুঝাইয়া দিবেন না।” সন্ন্যাসী কহিলেন, “না। সাধনা বারা বঝিতে হইবে।” এমন সময় হরিহরের ছোটো ভাই শংকর আসিয়া উপস্থিত হইল। তাহাকে দেখিরা হরিহর তাড়াতাড়ি লিখনটি লুকাইবার চেষ্টা করিল। সন্ন্যাসী হাসিয়া কহিলেন,