প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৪১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গুপ্তধন r - to 6 o' ● # এমন সময় কিছদর ঘন বনের মধ্যে অনির দীপ্তি দেখা গেল। মৃত্যুঞ্জয় তাহার প্রস্তরাসন ছাড়িয়া উঠিয়া পড়িল, আর সেই শিখা লক্ষ্য করিয়া চলিতে লাগিল । বহ কটে কিছদরে গিয়া একটা অশথ গাছের গড়ির অন্তরাল হইতে পষ্ট দেখিতে পাইল, তাহার সেই পরিচিত সন্ন্যাসী অগ্নির আলোকে সেই তুলটের লিখন মেলিয়া একটা কাঠি দিয়া ছাইয়ের উপরে একমনে অঙ্গক কষিতেছে। মৃত্যুঞ্জয়ের ঘরের সেই পৈতৃক তুলটের লিখন! আরে ভন্ড, চোর! এইজন্যই সে মৃত্যুঞ্জয়কে শোক করিতে নিষেধ করিয়াছিল বটে ! সন্ন্যাসী একবার করিয়া অঙ্ক কষিতেছে, আর, একটা মাপকাঠি লইয়া জমি মাপিতেছে—কিয়দদর মাপিয়া হতাশ হইয়া ঘাড় নাড়িয়া পনবার আসিয়া অঙ্ক কষিতে প্রবত্ত হইতেছে। এমনি করিয়া রাত্রি যখন অবসানপ্রায়, যখন নিশান্তের শীতবায়তে বনস্পতির অগ্রশাখার পল্লবগলি মমরিত হইয়া উঠিল, তখন সন্ন্যাসী সেই লিখনপত্র গটাইয়া লইয়া চলিয়া গেল। মৃত্যুঞ্জয় কী করিবে ভাবিয়া পাইল না। ইহা সে নিশ্চয় বুঝিতে পারিল যে, সন্ন্যাসীর সাহায্য ব্যতীত এই লিখনের রহস্য ভেদ করা তাহার সাধ্য হইবে না। লব্ধে সন্ন্যাসী যে মৃত্যুঞ্জয়কে সাহায্য করবে না, তাহাও নিশ্চিত। অতএব গোপনে সন্ন্যাসীর প্রতি দটি রাখা ছাড়া অন্য উপায় নাই। কিন্তু, দিনের বেলায় গ্রামে না গেলে তাহার আহার মিলিবে না; অতএব অন্তত কাল সকালে একবার গ্রামে যাওয়া আবশ্যক । ভোরের দিকে অন্ধকার একটা ফিকা হইবামাত্র সে গাছ হইতে নামিয়া পড়িল । যেখানে সন্ন্যাসী ছাইয়ের মধ্যে অাঁক কষিতেছিল সেখানে ভালো করিয়া দেখিল, কিছুই বঝিল না। চতুদিকে ঘুরিয়া দেখিল, অন্য বনখণ্ডের সঙ্গে কোনো প্রভেদ নাই। বনতলের অন্ধকার কমে যখন ক্ষীণ হইয়া আসিল তখন মাতুঙ্গয় অতি সাবধানে চারি দিক দেখিতে দেখিতে গ্রামের উদ্দেশে চলিল। তাহার ভয় ছিল পাছে সন্ন্যাসী তাহাকে দেখিতে পায়। যে দোকানে মৃত্যুঞ্জয় আশ্রয় গ্রহণ করিয়াছিল তাহার নিকটে একটি কায়স্থগহিণী ৱত-উদযাপন করিয়া সেদিন ব্রাহ্মণভোজন করাইতে প্রবত্ত ছিল। সেইখানে আজ মৃত্যুঞ্জয়ের আহার জটিয়া গেল। কয়দিন আহারের কন্টের পর আজ তাহার ভোজনটি গরতের হইয়া উঠিল। সেই গরভোজনের পর যেমন তামাকটি খাইয়া দোকানের মাদরটিতে একবার গড়াইয়া লইবার ইচ্ছা করিল অমনি গত রাত্রির অনিদ্রাকাতর মৃত্যুঞ্জয় ঘমে আচ্ছন্ন হইয়া পড়িল । মৃত্যুঞ্জয় স্থির করিয়াছিল, আজ সকাল-সকাল আহারাদি করিয়া যথেষ্ট বেলা থাকিতে বাহির হইবে। ঠিক তাহার উলটা হইল। যখন তাহার নিদ্রাভঙ্গ হইল তখন সন্য অস্ত গিয়াছে। তব মতু্যঞ্জয় দমিল না। অন্ধকারেই বনের মধ্যে সে প্রবেশ করিল। দেখিতে দেখিতে রাত্রি ঘনীভূত হইয়া আসিল। গাছের ছায়ার মধ্যে দটি আর চলে না, জঙ্গলের মধ্যে পথ অবরখ হইয়া যায়। মৃত্যুঞ্জয় যে কোন দিকে কোথায় বাইতেছে তাহা কিছুই ঠাহর পাইল না। রাত্রি যখন অবসান হইল তখন দেখিল সমস্ত