পাতা:গল্পগুচ্ছ (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/২২৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গল্পগুচ্ছ 8૭૧ শভেদটি কান্তিচন্দ্রের বয়স অলপ, তথাপি দীবিয়োগের পর দ্বিতীয় শীর অনুসন্ধানে ক্ষাত থাকিয়া পশুপক্ষী-শিকারেই মনোনিবেশ করিয়াছেন। দীঘ কৃশ কঠিন লম্ব শরীর, তীক্ষ দটি, অব্যথা লক্ষ্য, সাজসজায় পশ্চিমদেশীর মতো; সঙ্গে সঙ্গে কুস্তিগির হীরা সিং ছক্কনলাল, এবং গাইয়ে বাজিয়ে খাসাহেব, মিঞাসাহেব অনেক ফিরিয়া থাকে; অকমণ্য অনচের-পরিচরেরও অভাব নাই। * দইচারিজন শিকারী বন্ধবোন্ধব লইয়া অঘ্রানের মাঝামাঝি কান্তিচন্দ্র নৈদিঘির বিলের ধারে শিকার করিতে গিয়াছেন। নদীতে দুইটি বড়ো বোটে তাঁহাদের বাস, আরও গোটা-তিনচার নৌকায় চাকরবাকরের দঙ্গ গ্রামের ঘাট ঘিরিয়া বসিয়া আছে। গ্রামবধদের জল তোলা, স্নান করা প্রায় বন্ধ। সমস্ত দিন বন্দকের আওয়াজে জলস্থল কম্পমান, সন্ধ্যাবেলায় ওস্তাদি গলার তানকতবে পল্লির নিদ্রাতলা তিরোহিত। একদিন সকালে কান্তিচন্দ্র বোটে বসিয়া বন্দকের চোঙ সযত্নে বহতে পরিকার করিতেছেন, এমন সময় অনতিদারে হাঁসের ডাক শুনিয়া চাহিয়া দেখিলেন, একটি বালিকা দই-হাতে দইটি তরণে হাঁস বক্ষে চাপিয়া ধরিয়া ঘাটে আনিয়াছে। নদীটি ছোটাে, প্রায় স্রোতহীন, নানাজাতীয় শৈবালে ভরা। বালিকা হাঁস দাইটিকে জলে ছাড়িয়া দিয়া, একেবারে আয়ত্তের বাহিরে না যায় এইভাবে, হস্তসতক মেনহে তাহাদের আগলাইবার চেষ্টা করিতেছে। এটুকু বঝা গেল, অন্য দিন সে তাহার হাঁস জলে ছাড়িয়া দিয়া চলিয়া যাইত, কিন্তু সম্প্রতি শিকারীর ভয়ে নিশ্চিন্তচিত্তে রাখিয়া যাইতে পারিতেছে না। মেয়েটির সৌন্দয নিরতিশয় নবীন, যেন বিশ্বকমা তাহাকে সদ্য নির্মাণ করিয়া ছাড়িয়া দিয়াছেন। বয়স ঠিক করা শক্ত। শরীরটি বিকশিত কিন্তু মুখটি এমন কাঁচা যে, সংসার কোথাও যেন তাহাকে লেশমাত্র পশ করে নাই। সে ষে যৌবনে পা ফেলিয়াছে এখনও নিজের কাছে সে খবরটি তাহার পৌছে নাই । কান্তিচন্দ্র ক্ষণকালের জন্য বন্দকে সাফ করায় ঢিল দিলেন। তাঁহার চমক লাগিয়া গেল। এমন জায়গায় এমন মুখ দেখিবেন বলিয়া কখনও আশা করেন নাই। অথচ, রাজার অন্তঃপরের চেয়ে এই জায়গাতেই এই মুখখানি মানাইয়াছিল। সোনার ফলদানির চেয়ে গাছেই ফলকে সাজে। সেদিন শরতের শিশিরে এবং প্রভাতের রৌদ্রে নদীতীরের বিকশিত কাশবনটি ঝলমল করিতেছিল, তাহারই মধ্যে সেই সরল নবীন মুখখানি কান্তিচন্দ্রের মাখ চক্ষে আশিবনের আসন্ন আগমনীর একটি আনন্দচ্ছবি অকিয়া দিল। মন্দাকিনীতীরে তরণ পাবতী কখনও কখনও এমন হংসশিশ বক্ষে লইয়া আসিতেন, কালিদাস সে কথা লিখিতে ভুলিয়াছেন। . . এমন সময় হঠাৎ মেয়েটি ভাঁতরঙ্গত হইয়া কাঁদো-কাদো মুখে ছাড়াতাড়ি হাঁস DBB BB DDD DDD DDDD BBBBB DD BBB DDD DDS DDDu কারণসন্ধানে বাহিবে আসিয়া দেখিলেন, তাঁহার একটি রসিক পরিষদ কৌতুক করিয়া বালিকাকে ভয় দেখাইবার জন্য হাঁসের দিকে ফাঁকা বঙ্গকে লক্ষ্য করিড়েছে। কাস্তিচন্দ্র