প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/২৪৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


* 8to গল্পগুচ্ছ লাগিল, “আমি কলার কাঁদি, কাঁচকলার কাঁদি, ভাই কুমাণ্ড, ভাই গহচালবিহারী কুমাণ্ড, আমি নিতান্তই কাঁচকলার কাঁদি।” চার কৌতুহলের তাড়নায় রাগ রাখিতে পারিল না; হাসিয়া উঠিয়া বই ফেলিয়া দিয়া কহিল, “তুমি ভারি হিংসটে, নিজের লেখা ছাড়া কিছু পছন্দ হয় না।” অমল কহিল, "তোমার ভারি উদারতা, তৃণটি পেলেও গিলে খেতে চাও।” চার । আচ্ছা মশায়, ঠাট্টা করতে হবে না; পকেটে কী আছে বের করে ফেলো । অমল। কী আছে আন্দাজ করো। অনেকক্ষণ চারকে বিরক্ত করিয়া অমল পকেট হইতে সরোরহ-নামক বিখ্যাত মাসিক পত্র বাহির করিল। চার দেখিল, কাগজে অমলের সেই খাতা’-নামক প্রবন্ধটি বাহির হইয়াছে। চার দেখিয়া চুপ করিয়া রহিল। অমল মনে করিয়াছিল, তাহার বোঠান খব খুশি হইবে। কিন্তু খুশির বিশেষ কোনো লক্ষণ না দেখিয়া বলিল, "সরোরাহ পরে যে-সে লেখা বের হয় না।” অমল এটা কিছু বেশি বলিল। যে-কোনোপ্রকার চলনসই লেখা পাইলে সম্পাদক ছাড়েন না। কিন্তু অমল চারকে বুঝাইয়া দিল, সম্পাদক বড়োই কড়া লোক, এক শো প্রবন্ধের মধ্যে একটা বাছিয়া লন । শুনিয়া চার খুশি হইবার চেষ্টা করিতে লাগিল কিন্তু খুশি হইতে পারিল না। কিসে যে সে মনের মধ্যে আঘাত পাইল তাহা বুঝিয়া দেখিবার চেষ্টা করিল ; কোনো সংগত কারণ বাহির হইল না। অমলের লেখা অমল এবং চার দুজনের সম্পত্তি। অমল লেখক এবং চার পাঠক । তাহার গোপনতাই তাহার প্রধান রস। সেই লেখা সকলে পড়িবে এবং অনেকেই প্রশংসা করিবে, ইহাতে চারকে যে কেন এতটা পীড়া দিতেছিল তাহা সে ভালো করিয়া বুঝিল না। কিন্তু লেখকের আকাঙ্ক্ষা একটিমাত্র পাঠকে অধিকদিন মেটে না। অমল তাহার লেখা ছাপাইতে আরম্ভ করিল। প্রশংসাও পাইল । মাঝে মাঝে ভক্তের চিঠিও আসিতে লাগিল। অমল সেগুলি তাহার বোঠানকে দেখাইত। চার তাহাতে খশিও হইল, কস্টও পাইল। এখন অমলকে লেখায় প্রবত্ত করাইবার জন্য একমাত্র তাহারই উৎসাহ ও উত্তেজনার প্রয়োজন রহিল না। অমল মাঝে মাঝে কদাচিৎ নামস্বাক্ষরবিহীন রমণীর চিঠিও পাইতে লাগিল। তাহা লইয়া চার তাহাকে ঠাট্টা করিত কিন্তু সুখ পাইত না। হঠাৎ তাহাদের কমিটির রন্ধ বার খালিয়া বাংলাদেশের পাঠকমণ্ডলী তাহাদের দজনকার মাঝখানে আসিয়া দাঁড়াইল। ভূপতি একদিন অবসরকালে কহিল, “তাই তো চার্য, আমাদের অমল যে এমন ভালো লিখতে পারে তা তো আমি জানতুম না।” ভূপতির প্রশংসায় চার খুশি হইল। অমল ভূপতির আশ্রিত, কিন্তু অন্য আশ্রিতদের সহিত তাহার অনেক প্রভেদ আছে, এ কথা তাহার স্বামী বুঝিতে পারিলে চার যেন গবা অনুভব করে। তাহার ভাবটা এই যে, অমলকে কেন যে আমি এতটা স্নেহ আদর করি এতদিনে তোমরা তাহা বুঝিলে; আমি অনেকদিন আগেই অমলের মর্যাদা বঝিয়াছিলাম, অমল কাহারও অবজ্ঞার পাত্র নহে।’