পাতা:গল্পগুচ্ছ (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/২৫৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8心曾 গল্পগুচ্ছ না ভাবিয়া ইতস্তত করিতেছিল মন্দা ঈষৎ হাসিয়া কহিল, “যাও ভাই, মান ভাঙাও গে ; চার রাগ করেছে। আমাকে লেখা শোনালে মশকিলে পড়বে।” ইহার পরে অমলের পক্ষে ওঠা অত্যন্ত কঠিন। অমল চারীর প্রতি কিছ রন্টে হইয়া কহিল, “কেন, মশকিল কিসের।" বলিয়া লেখা বিস্তৃত করিয়া ধরিয়া পড়িবার উপক্ৰম করিল। মন্দা দই হাতে তাহার লেখা আচ্ছাদন করিয়া বলিল, “কাজ নেই ভাই, পোড়ো না।” বলিয়া, যেন অশ্র সম্বরণ করিয়া অন্যত্র চলিয়া গেল। পঞ্চম পরিচ্ছেদ চার নিমন্ত্রণে গিয়াছিল। মন্দা ঘরে বসিয়া চুলের দড়ি বিনাইতেছিল। “বউঠান” বলিয়া অমল ঘরের মধ্যে প্রবেশ করিল। মন্দা নিশ্চয় জানিত যে, চারর নিমন্ত্রণে যাওয়ার সংবাদ অমলের অগোচর ছিল না ; হাসিয়া কহিল, “আহা অমলবাব, কাকে খজতে এসে কার দেখা পেলে। এমনি তোমার অদষ্ট।” অমল কহিল, “বাঁ দিকের বিচালিও যেমন ডান দিকের বিচালিও ঠিক তেমনি, গদ্যভের পক্ষে দুইই সমান আদরের।” বলিয়া সেইখানে বসিয়া গেল। অমল। মন্দা-বোঠান, তোমাদের দেশের গল্প বলো, আমি শনি। লেখার বিষয় সংগ্ৰহ করিবার জন্য অমল সকলের সব কথা কৌতুহলের সহিত শানিত। সেই কারণে মন্দাকে এখন সে আর প্রবের ন্যায় সম্পণে উপেক্ষা করিত না। মন্দার মনস্তত্ত্ব, মন্দার ইতিহাস, এখন তাহার কাছে ঔৎসক্যজনক। কোথায় তাহার জন্মভূমি, তাহাদের গ্রামটি কিরাপ, ছেলেবেলা কেমন করিয়া কাটিত, বিবাহ হইল কবে, ইত্যাদি সকল কথাই সে খটিয়া খটিয়া জিজ্ঞাসা করিতে লাগিল। মন্দার ক্ষুদ্র জীবনবৃত্তান্ত সম্বন্ধে এত কৌতুহল কেহ কখনও প্রকাশ করে নাই। মন্দা আনন্দে নিজের কথা বকিয়া যাইতে লাগিল ; মাঝে মাঝে কহিল, "কী বকছি তার ঠিক নাই।” অমল উৎসাহ দিয়া কহিল, “না, আমার বেশ লাগছে, বলে যাও।” মন্দার বাপের এক কানা গোমস্তা ছিল, সে তাহার দ্বিতীয় পক্ষের মীর সঙ্গে ঝগড়া করিয়া এক-একদিন অভিমানে অনশনরত গ্রহণ করিত, অবশেষে ক্ষধার জালায় মন্দাদের বাড়িতে কিরূপে গোপনে আহার করিতে আসিত এবং দৈবাৎ একদিন সীর কাছে কিরাপে ধরা পড়িয়াছিল, সেই গল্প যখন হইতেছে এবং অমল মনোযোগের সহিত শনিতে শুনিতে সকৌতুকে হাসিতেছে এমন সময় চার ঘরের মধ্যে আসিয়া প্রবেশ कर्गद्रळ । গল্পের সত্র ছিন্ন হইয়া গেল। তাহার আগমনে হঠাৎ একটা জমাট সভা ভাঙিয়া গেল, চার তাহা পাটই বঝিতে পারিল। অমল জিজ্ঞাসা করিল, “বউঠান, এত সকাল-সকাল ফিরে এলে যে ?” চার কহিল, “তাই তো দেখছি। বেশি সকাল-সকালই ফিরেছি।” বলিয়া চলিয়া যাইবার উপক্ৰম করিল।