পাতা:গল্পগুচ্ছ (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/২৫৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


नधग्नेनौछ् 8芭邻 অমল কহিল, “ভালোই করেছ, বাঁচিয়েছ আমাকে। আমি ভাবছিলাম, কখন না জানি ফিরবে। মন্মথ দত্তর সন্ধ্যার পাখি বলে নতন বইটা তোমাকে পড়ে শোনাব বলে এনেছি।” চার। এখন থাক, আমার কাজ আছে। অমল। কাজ থাকে তো আমাকে হুকুম করো, আমি করে দিচ্ছি। চার জানিত অমল আজ বই কিনিয়া আনিয়া তাহাকে শনাইতে আসিবে ; চার ঈষা জন্মাইবার জন্য মন্মথর লেখার প্রচুর প্রশংসা করিবে এবং অমল সেই বইটাকে বিকৃত করিয়া পড়িয়া বিদুপ করিতে থাকিবে। এই সকল কল্পনা করিয়াই অধৈৰ্যবশত সে অকালে নিমন্ত্ৰণগহের সমস্ত অননয়বিনয় লঙ্ঘন করিয়া অসখের ছাতায় গ্যহে চলিয়া আসিতেছে। এখন বারবার মনে করিতেছে, সেখানে ছিলাম ভালো, চলিয়া আসা অন্যায় হইয়াছে।’ মন্দাও তো কম বেহায়া নয়। একলা অমলের সহিত এক ঘরে বসিয়া দাঁত বাহির করিয়া হাসিতেছে। লোকে দেখিলে কী বলিবে। কিন্তু মন্দাকে এ কথা লইয়া ভৎসনা করা চারীর পক্ষে বড়ো কঠিন। কারণ, মন্দা যদি তাহারই দন্টাতের উল্লেখ করিয়া জবাব দেয়। কিন্তু সে হইল এক, আর এ হইল এক। সে অমলকে রচনায় উৎসাহ দেয়, অমলের সঙ্গে সাহিত্যালোচনা করে, কিন্তু মন্দার তো সে উদ্দেশ্য আদবেই নয়। মন্দা নিঃসন্দেহই সরল যবেককে মগধ করিবার জন্য জাল বিস্তার করিতেছে। এই ভয়ংকর বিপদ হইতে বেচারা অমলকে রক্ষা করা তাহারই কতব্য। অমলকে এই মায়াবিনীর মতলব কেমন করিয়া বঝাইবে বঞ্চোইলে তাহার প্রলোভনের নিবত্তি না হইয়া যদি উলটা হয় । বেচারা দাদা! তিনি তাহার স্বামীর কাগজ লইয়া দিন রাত খাটিয়া মরিতেছেন, আর মন্দা কিনা কোণটিতে বসিয়া অমলকে ভুলাইবার জন্য আয়োজন করিতেছে। দাদা বেশ নিশ্চিন্ত আছেন। মন্দার উপরে তাঁর অগাধ বিশ্বাস। এ-সকল ব্যাপার চার কী করিয়া স্বচক্ষে দেখিয়া সিথর থাকিবে। ভারি অন্যায়। কিন্তু আগে অমল বেশ ছিল, যেদিন হইতে লিখিতে আরম্ভ করিয়া নাম করিয়াছে সেইদিন হইতেই যত অনখ দেখা যাইতেছে। চারই তো তাহার লেখার গোড়া। কুক্ষণে সে অমলকে রচনায় উৎসাহ দিয়াছিল। এখন কি আর অমলের পরে তাহার পবের মতো জোর খাটিবে। এখন অমল পাঁচজনের আদরের বাদ পাইয়াছে, অতএব একজনকে বাদ দিলে তাহার আসে যায় না। চার পষ্টই বঝিল, তাহার হাত হইতে গিয়া পাঁচজনের হাতে পড়িয়া অমলের সমহে বিপদ। চারকে অমল এখন নিজের ঠিক সমকক্ষ বলিয়া জানে না ; চারকে সে ছাড়াইয়া গেছে। এখন সে লেখক, চার পাঠক । ইহার প্রতিকার করিতেই হইবে। আহা, সরল অমল, মায়াবিনী মন্দা, বেচারা দাদা। ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ সেদিন আষাঢ়ের নবীন মেঘে আকাশ আচ্ছন্ন। ঘরের মধ্যে অন্ধকার ঘনীভূত হইয়াছে বলিয়া চার তাহার খোলা জানালার কাছে একান্ত ককিয়া পড়িয়া কী-একটা