পাতা:গল্পগুচ্ছ (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/২৭১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8వ গল্পগুচ্ছ জন্য বিধাও জন্মিল না ? এতদিন ধরিয়া তাহাকে যে আমরা এত যত্ন করিয়া রাখলাম, আর যেমনি বিদায় লইবার একটুখানি ফাঁক পাইল অমনি কোমর বধিয়া প্রস্তুত হইল, যেন এতদিন সংযোগের অপেক্ষা করিতেছিল। অথচ মাখে কতই মিষ্ট, কতই ভালোবাসা। মানবকে চিনিবার জো নাই। কে জানিত, যে লোক এত লিখিতে পারে তাহার হাদয় কিছুমাত্র নাই।’ ; নিজের হদয়প্রাচুর্যের সহিত তুলনা করিয়া চার অমলের শান্য হাদয়কে অত্যন্ত অবজ্ঞা করিতে অনেক চেষ্টা করিল, কিন্তু পারিল না। ভিতরে ভিতরে নিয়ত একটা বেদনার উদবেগ তপত শালের মতো তাহার অভিমানকে ঠেলিয়া ঠেলিয়া তুলিতে লাগিল, অমল আজ বাদে কাল চলিয়া যাইবে, তব এ কয়দিন তাহার দেখা নাই। আমাদের মধ্যে যে পরপর একটা মনান্তর হইয়াছে সেটা মিটাইয়া লইবার আর অবসরও হইল না।’ চার প্রতিক্ষণে মনে করে, অমল আপনি আসিবে—তাহাদের এতদিনকার খেলাধুলা এমন করিয়া ভাঙিবে না, কিন্তু অমল আর আসেই না। অবশেষে যখন যাত্রার দিন অত্যন্ত নিকটবতী হইয়া আসিল তখন চার নিজেই অমলকে ডাকিয়া পাঠাইল । অমল বলিল, “আর-একট পরে যাচ্ছি।" চার তাহাদের সেই বারান্দার চৌকিটাতে গিয়া বসিল। সকালবেলা হইতে ঘন মেঘ করিয়া গমট হইয়া আছে—চার তাহার খোলা চুল এলো করিয়া মাথায় জড়াইয়া একটা হাতপাখা লইয়া ক্লান্ত দেহে অলপ অরুপ বাতাস করিতে লাগিল। x অত্যন্ত দেরি হইল। ক্লমে তাহার হাতপাখা আর চলিল না। রাগ দুঃখ অধৈৰ্য তাহার বকের ভিতরে ফটিয়া উঠিল। মনে মনে বলিল, নাই আসিল অমল, তাতেই বা কাঁ। কিন্তু তব পদশব্দ মাত্রেই তাহার মন বারের দিকে ছটিয়া যাইতে লাগিল। দরে গিজায় এগারোটা বাজিয়া গেল। স্নানান্তে এখনি ভূপতি থাইতে আসিবে। এখনও আধ ঘণ্টা সময় আছে, এখনও অমল যদি আসে। যেমন করিয়া হোক, তাহাদের কয়দিনকার নীরব ঝগড়া আজ মিটাইয়া ফেলিতেই হইবে- অমলকে এমনভাবে বিদায় দেওয়া যাইতে পারে না। এই সমবয়সি দেওর-ভাজের মধ্যে যে চিরন্তন মধরে সম্মবন্ধটকুে আছে– অনেক ভাব, আড়ি, অনেক নেহের দৌরাত্ম্য, অনেক বিশ্লখ সখালোচনায় বিজড়িত একটি চিরচ্ছায়াময় লতাবিতান-অমল সে কি আজ ধলায় লটাইয়া দিয়া বহুদিনের জন্য বহন্দরে চলিয়া যাইবে। একট পরিতাপ হইবে না? তাহার তলে কি শেষ জলও সিঞ্চন করিয়া যাইবে না- তাহাদের অনেকদিনের দেওয়ভাজ-সম্বন্ধের শেষ আশ্রজেল ! আধঘণ্টা প্রায় অতীত হয়। এলো খোঁপা খলিয়া খানিকটা চুলের গাছ চায় দ্রুতবেগে আঙলে জড়াইতে এবং খলিতে লাগিল। অশ্র সবরণ করা আর যায় না। চাকর আসিয়া কহিল, “মঠাকরুন, বাবর জন্যে ভাব বের করে দিতে হবে।” চার অচল হইতে-ভাঁড়ারের চাবি খলিয়া কন করিয়া চাকরের পায়ের কাছে ফেলিয়া দিল— সে আশ্চর্য হইয়া চাবি লইয়া চলিয়া গেল । চারর বকের কাছ হইতে কী-একটা ঠেলিয়া কণ্ঠের কাছে উঠিয়া আসিতে त्नान्निन्न ! - * , যথাসময়ে ভূপতি সহাস্যমন্খে খাইতে আসিল। চার পাখা-হাতে আহায়প্ৰামে