প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৩০২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মাল্যদান 4 ఫిరి পড়িল। প্রথম-মেঘ-সমাগমে সংগম্ভীর আষাঢ়ের আকাশের মতো কুড়ানির কালো চোখদটির উপর একটি যেন সদরব্যাপী সজলনিখতা ঘনাইয়া আসিল। যতীন সকরণ যত্নের সহিত কহিল, “কুড়ানি, এই দধেটকু শেষ করিয়া ফেলো।” কুড়ানি একটা উঠিয়া বসিয়া পেয়ালার উপর হইতে যতীনের মখে স্থিরদটিতে চাহিয়া সেই দধটকু ধীরে ধীরে খাইয়া ফেলিল। হাসপাতালের ডাক্তার একটিমাত্র রোগীর পাশে সমস্ত ক্ষণ বসিয়া থাকিলে কাজও চলে না, দেখিতেও ভালো হয় না। অন্যত্র কতব্য সারিবার জন্য যতীন যখন উঠিল তখন ভয়ে ও নৈরাশ্যে কুড়ানির চোখদটি ব্যাকুল হইয়া পড়িল। যতীন তাহার হাত ধরিয়া তাহাকে আশ্বাস দিয়া কহিল, “আমি আবার এখনই আসিব, কুড়ানি, তোমার কোনো ভয় নাই।” যতীন কতৃপক্ষদিগকে জানাইল যে, এই নতন-আনীত রোগিণীর পেলগ হয় নাই, সে না খাইয়া দলবল হইয়া পড়িয়াছে। এখানে অন্য প্লেগরোগীর সঙ্গে থাকিলে তাহার পক্ষে বিপদ ঘটিতে পারে। - বিশেষ চেষ্টা করিয়া যতীন কুড়ানিকে অন্যত্র লইয়া যাইবার অনুমতি লাভ করিল এবং নিজের বাসায় লইয়া গেল। পটলকে সমস্ত খবর দিয়া একখানি চিঠিও লিখিয়া झिठा । সেইদিন সন্ধ্যার সময় রোগী এবং চিকিৎসক ছাড়া ঘরে আর কেহ ছিল না। শিয়রের কাছে রঙিন কাগজের আবরণে ঘেরা একটি কেরোসিন-ল্যাম্প ছায়াচ্ছন্ন মদ আলোক বিকীর্ণ করিতেছিল, ব্র্যাকেটের উপরে একটা ঘড়ি নিস্তব্ধ ঘরে টিকটিক শব্দে দোলক দোলাইতেছিল। যতীন কুড়ানির কপালে হাত দিয়া কহিল, “তুমি কেমন বোধ করিতেছ, কুড়ানি।” কুড়ানি তাহার কোনো উত্তর না করিয়া যতীনের হাতটি আপনার কপালেই চাপিয়া ब्राथिझा मिळ । - যতীন আবার জিজ্ঞাসা করিল, “ভালো বোধ হইতেছে ?” কুড়ানি একটুখানি চোখ বজিয়া কহিল, “হাঁ।” যতীন জিজ্ঞাসা করিল, “তোমার গলায় এটা কী কুড়ানি।” কুড়ানি তাড়াতাড়ি কাপড়টা টানিয়া তাহা ঢাকিবার চেষ্টা করিল। যতীন দেখিল, সে একগাছি শুকনো বকুলের মালা। তখন তাহার মনে পড়িল, সে মালাটা কী। ঘড়ির টিকটিক শব্দের মধ্যে যতীন চুপ করিয়া বসিয়া ভাবিতে লাগিল। কুড়ানির এই প্রথম লুকাইবার চেষ্টা, নিজের হৃদয়ের ভাব গোপন করিবার এই তাহার প্রথম প্রয়াস। কুড়ানি মগশিশ ছিল, সে কখন হাদয়ভারাতুর যাবতী নারী হইয়া উঠিল। কোন রৌদ্রের আলোকে, কোন রৌদ্রের উত্তাপে তাহার বন্ধির উপরকার সমস্ত কুয়াশা কাটিয়া গিয়া তাহার লজ্জা, তাহার শঙ্কা, তাহার বেদনা এমন হঠাৎ প্রকাশিত হইয়া পড়িল । রাত্রি দটো-আড়াইটার সময় যতীন চেকিতে বসিয়াই ঘামাইয়া পড়িয়াছে। হঠাৎ বার খোলার শব্দে চমকিয়া উঠিয়া দেখিল, পটল এবং হরকুমারবাব এক বড়ো ব্যাগ হাতে ঘরের মধ্যে প্রবেশ করিলেন। t