পাতা:গীতবিতান.djvu/১৩৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
পূজা
২৭

সুর দিয়েছ তুমি, আমি  তোমার গান তো গাই নি।

৫১

কেন  চোখের জলে ভিজিয়ে দিলেম না  শুকনো ধুলো যত!
কে জানিত আসবে তুমি গো  অনাহূতের মতো।
পার হয়ে এসেছ মরু,  নাই যে সেথায় ছায়াতরু—
পথের দুঃখ দিলেম তোমায় গো  এমন ভাগ্যহত।
আলসেতে বসে ছিলেম আমি  আপন ঘরের ছায়ে,
জানি নাই যে তোমায় কত ব্যথা  বাজবে পায়ে পায়ে।
ওই বেদনা আমার বুকে  বেজেছিল গোপন দুখে—
দাগ দিয়েছে মর্মে আমার গো  গভীর হৃদয়ক্ষত।

৫২

আমায়  বাঁধবে যদি কাজের ডোরে
কেন পাগল কর এমন ক’রে?
বাতাস আনে কেন জানি  কোন্ গগনের গোপন বাণী,
পরানখানি দেয় যে ভ’রে।
সোনার আলো কেমনে হে,  রক্তে নাচে সকল দেহে।
কারে পাঠাও ক্ষণে ক্ষণে  আমার খোলা বাতায়নে,
সকল হৃদয় লয় যে হ’রে।

৫৩

ওদের সাথে মেলাও যারা চরায় তোমার ধেনু,
তোমার নামে বাজায় যারা বেণু।
পাষাণ দিয়ে বাঁধা ঘাটে  এই-যে কোলাহলের হাটে
কেন আমি কিসের লোভে এনু।
ওরা কী ডাক ডাকে বনের পাতাগুলি, কার ইশারা তৃণের অঙ্গুলি!
প্রাণেশ আমার লীলাভরে  খেলেন প্রাণের খেলাঘরে,
পাখির মুখে এই-যে খবর পেনু।