৩৪৮
এবার, সখী, সোনার মৃগ দেয় বুঝি দেয় ধরা।
আয় গো তোরা পুরাঙ্গনা, আয় সবে আয় ত্বরা।
ছুটেছিল পিয়াস-ভরে মরীচিকাবারির তরে,
ধ’রে তারে কোমল করে কঠিন ফাঁসি পরা।
দয়ামায়া করিস নে গো, ওদের নয় সে ধারা।
দয়ার দোহাই মানবে না গো একটু পেলেই ছাড়া।
বাঁধন-কাটা বন্যটাকে মায়ার ফাঁদে ফেলাও পাকে,
ভুলাও তাকে বাঁশির ডাকে, বুদ্ধিবিচার-হরা।
৩৪৯
কী হল আমার! বুঝি বা সখী, হৃদয় আমার হারিয়েছি।
পথের মাঝেতে খেলাতে গিয়ে হৃদয় আমার হারিয়েছি।
প্রভাতকিরণে সকালবেলাতে
মন লয়ে, সখী, গেছিনু খেলাতে—
মন কুড়াইতে, মন ছড়াইতে, মনের মাঝারে খেলি বেড়াইতে,
মনোফুল দলি চলি বেড়াইতে—
সহসা, সজনী, চেতনা পেয়ে
সহসা, সজনী, দেখিনু চেয়ে
রাশি রাশি ভাঙা হৃদয়-মাঝে হৃদয় আমার হারিয়েছি।
যদি কেহ, সখী, দলিয়া যায়,
তার ’পর দিয়া চলিয়া যায়—
শুকায়ে পড়িবে, ছিঁড়িয়া পড়িবে, দলগুলি তার ঝরিয়া পড়িবে—
যদি কেহ, সখী, দলিয়া যায়।
আমার কুসুমকোমল হৃদয় কখনো সহে নি রবির কর,
আমার মনের কামিনীপাপড়ি সহে নি ভ্রমরচরণভর।
চিরদিন, সখী, হাসিত খেলিত,
জোছনা-আলোকে নয়ন মেলিত—
সহসা আজ সে হৃদয় আমার কোথায়, সজনী, হারিয়েছি।