পাতা:গুচ্ছ - কাঞ্চনমালা বন্দ্যোপাধ্যায়.djvu/১৫৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

গুচ্ছ।

বিপদের আশঙ্কা নাই, তখন রসময় বাবুর স্ত্রী কাঁদিতে কাঁদিতে মিনুর শীর্ণ হাতখানি আমার হাতে দিয়া বলিলেন “বাবা, আজ হইতে মিনু তোমার হইল, আর আমাদের নহে।” আমি লজ্জায় অধোবদন হইলাম।

 বলা বাহুল্য মিনু ওরফে মৃণালিনীর সহিত আমার বিবাহ হইয়া গেল। বিবাহের বরযাত্রী আবদুল আর রামদীন, আর বরকর্ত্তা স্বয়ং সতীশচন্দ্র। রসময় বাবুর অনুরোধ সত্ত্বেও দেশে কাহাকেও নিমন্ত্রণ করি নাই। মিনুকে লইয়া সতীশের বাড়ীতে ফিরিয়া আসিলাম। ফুলশয্যার সময় আনন্দ চাপিয়া রাখিতে না পারিয়া সতীশচন্দ্র গান ধরিল

কাছে তার যাই যদি, কত যেন পাই নিধি,
তবু হরষের হাসি ফুটে ফুটে ফুটেনা।

 সতীশের স্ত্রী তখন আমায় ঠাট্টা করিতেছিলেন, তখনি তাঁহাকে ছুটিতে হইল কারণ সতীশের রাসভ-বিনিন্দিত কণ্ঠস্বর তাহার কনিষ্ঠ পুত্রের নিদ্রাভঙ্গ করিয়াছিল। সেই সময়ে একটা দম্‌কা বাতাসে ঘরের দরজা খুলিয়া গেল। দেখিলাম ছাদে বসিয়া রামদীন গাহিতেছে,

বৈরাগ যোগ করম কঠিন মঁয় না করুরে।

 আবদুল তাহার সম্মুখে বসিয়া নিবিষ্টচিত্তে শুনিতেছে।



১৪০