পাতা:গৌড়রাজমালা.djvu/৫১

এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
ধর্ম্মপাল ও নাগভট।

সুবর্ণবর্ষের [বরোদায় প্রাপ্ত] ৭৩৪ শকাব্দের [৮১২ খৃষ্টাব্দের] তাম্রশাসন হইতে জানা যায়,—রাষ্ট্রকূট-রাজ তৃতীয় গোবিন্দ, কর্ক্করাজের পিতা ইন্দ্ররাজকে “লাট”-মণ্ডলের শাসনকর্ত্তা নিযুক্ত করিয়াছিলেন। সুতরাং এই নিমিত্তই হয়ত রাষ্ট্রকূট-পরবলকে লাট (গুজরাত) ত্যাগ করিয়া, পথরি-প্রদেশে সরিয়া আসিতে হইয়াছিল। গুর্জ্জরের উচ্চাভিলাষী প্ৰতীহার-রাজগণ এখানে হয়ত পরবলকে উৎপাত করিতে আরম্ভ করিয়াছিলেন। সুতরাং প্রতীহার-রাজের প্রবল-প্রতিদ্বন্দ্বী ধর্ম্মপালের আশ্রয় গ্রহণ ভিন্ন, পরবলের আত্মরক্ষার উপায়ান্তর ছিল না। সম্ভবতঃ এই সূত্রেই পরবল রণ্ণাদেবীকে ধর্ম্মপালের হস্তে সম্প্রদান করিয়াছিলেন।

 ধর্ম্মপাল পিতৃ-সিংহাসনে আরোহণ করিবার পূর্ব্বেই, গুর্জ্জরের অধীশ্বর বৎসরাজ পরলোক গমন করিয়াছিলেন; এবং তদীয় পুত্র দ্বিতীয় নাগভট্ট [নাগভট] গুর্জ্জর-সিংহাসনে আরোহণ করিয়াছিলেন। যোধপুর-রাজ্যের অন্তর্গত বুচকলা নামক স্থানে প্রাপ্ত ৮৭২ সম্বতের [৮১৫ খৃষ্টাব্দের] একখানি শিলালিপিতে[১] “মহারাজাধিরাজ পরমেশ্বর শ্রীবৎসরাজদেব-পাদানুধ্যাত পরমভট্টারক মহারাজাধিরাজ পরমেশ্বর শ্রীনাগভট্টদেবের প্রবর্দ্ধমান-রাজ্যের” উল্লেখ দৃষ্ট হয়। নাগভট্ট পিতৃরাজ্যের ন্যায় উত্তরাধিকারিসূত্রে পিতার উচ্চাভিলাষও লাভ করিয়াছিলেন। সুতরাং ধর্ম্মপাল ও নাগভট্টের মধ্যে সংঘর্ষ উপস্থিত হইতে বিলম্ব হইল না। পাল-রাজগণের তাম্রশাসনে পাল-প্রতীহার-যুদ্ধের কোনও বিবরণ পরিরক্ষিত হয় নাই। নাগভট্টের পৌত্র মিহিরভোজের [গোয়ালিয়রে প্রাপ্ত] শিলালিপিতে নাগভট্টের কীর্ত্তিকলাপের এইরূপ পরিচয় পাওয়া যায়—[২]

“आद्यः पुमान् पुनरपि स्फुटकीर्त्ति रस्मा-
ज्जात स्स एव किल नागभट स्तदाख्यः।
यत्रान्ध्र-सैन्धव-विदर्भ-कलिङ्ग-भूपेः
कौमार-धामनि पतङ्गसमै रपाति॥
त्रय्यास्पदस्य सुकृतस्य समृद्धि मिच्छु-
र्यः क्षत्रधाम-विधिबद्ध-बलि-प्रबन्धः।
जित्वा पराश्रयकृत-स्फुटनीचभावं
चक्रायुधं विनयनम्र-वपु र्व्व्यराजत्॥
दुर्व्वार-वैरि(?)वरवारण-वाजिवार-
याणौघ-संघटन-घोर-घनान्धकारं।

  1. Epigraphia Indica, Vol. IX., pp. 198-200,
  2. Archæological Survey of India, Annual Report, 1903-4, p. 281.