পাতা:গৌড়লেখমালা (প্রথম স্তবক).djvu/১৬৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।


 

মদনপালদেবের তাম্রশাসন।

[মনহলি-লিপি]
প্ৰশস্তি-পরিচয়।

 দিনাজপুরের অন্তর্গত মনহলি নামক গ্রামে একটি পুরাতন পুষ্করিণীর এক কোণে খাল কাটিবার সময়, ১২৮২ সালে [১৮৭৫ খৃষ্টাব্দে] এই তাম্রশাসনখানি বাহির হইয়া পড়ে। ইহা আবিষ্কার-কাহিনী। বহুকাল গ্রামের জমিদার শ্রীযুক্ত যোগেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয়ের বাটীতে রক্ষিত হইয়াছিল; এবং তৎকালে দিনাজপুরের কেহ কেহ ইহার ছাপ তুলিয়া লইয়া, পাঠোদ্ধার করিবারও চেষ্টা করিয়াছিলেন। অবশেষে পরলোকগত নন্দকৃষ্ণ বসু এম-এ, মহোদয় দিনাজপুরের কলেক্‌টর হইবার পর, তাঁহার চেষ্টায় এই তাম্রশাসন বিদ্বৎসমাজে উপনীত হইয়াছে। ১৩০৫ সালের সাহিত্যপরিষৎ-পত্রিকায় প্রাচ্যবিদ্যামহার্ণব শ্রীযুক্ত নগেন্দ্রনাথ বসু মহাশয় লিখিয়াছেন—“শ্রীযুক্ত নন্দকৃষ্ণ বসু মহাশয়” এই তাম্রফলক সংগ্রহ করিয়া, “সাহিত্য-পরিষৎ-কার্য্যালয়ে অর্পণ করিয়াছেন”। তিনিই আবার [১৯০০ খৃষ্টাব্দের এসিয়াটিক্ সোসাইটির পত্রিকায়] লিখিয়াছেন,—“দিনাজপুরের কলেক্‌টর এন, কে, বসু মহাশয় ১৮৯৯ খৃষ্টাব্দে এই তাম্রশাসনখানি সোসাইটিকে উপহার দান করিয়াছেন।”[১] শাসনথানি সাহিত্যপরিষৎ-কার্য্যালয়ে দেখিতে পাওয়া যায় না; তাহা সোসাইটিতেই রক্ষিত হইতেছে।

 এই শাসনলিপি কলিকাতায় আনীত হইবাব পর, শ্রীযুক্ত বসু মহাশয় ইহার পাঠোদ্ধারে ব্যাপৃত হইয়া, প্রথমে পরিষৎ-পত্রিকায়, পরে সোসাইটির পত্রিকায় এবং বিশ্বকোষে ইহার পাঠ পাঠোদ্ধার-কাহিনী। মুদ্রিত করিয়াছেন। তৃতীয় বিগ্রহপালদেবের আমগাছি-লিপির পাঠ বিশুদ্ধরূপে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হইবার পর, প্রথম হইতে একাদশ পাল-নরপালের পরিচয়-বিজ্ঞাপক যে সকল শ্লোক বিদ্বৎসমাজে সুপরিচিত হইয়াছে, এই তাম্রশাসনে সেই সকল শ্লোক এবং তদতিরিক্ত [ছয় জন নূতন নরপালের পরিচয়-বিজ্ঞাপক] ছয়টি নূতন শ্লোক উৎকীর্ণ রহিয়াছে। বসু মহাশয় নূতন শ্লোকগুলির যেরূপ পাঠ পরিষৎ-পত্রিকায় মুদ্রিত করিয়াছিলেন, সোসাইটির পত্রিকায় মুদ্রিত করিবার সময়ে, তাহা পরীক্ষিত ও সংশোধিত হইয়াছিল। তথাপি নূতন শ্লোকগুলির বিশুদ্ধ পাঠ উদ্ধৃত হইতে পারে নাই।

 বসু মহাশয় এই তাম্রশাসনের একটি সম্পূর্ণ বঙ্গানুবাদ [সাহিত্য-পরিষৎ-পত্রিকায়] প্রকাশিত করিবার চেষ্টা করিয়াছিলেন। কিন্তু তিনি অনুবাদের শেষে লিখিয়াছেন—“মূল তাম্রশাসনের

  1. J. A. S. B. 1900.

১৪৭