পাতা:ঘরোয়া.djvu/১৪৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

 এখন দেখো সাজের একটু অদলবদলে জিনিসটা কতখানি তফাত হয়।

 ‘নটীর পূজা’তে আমরা ছিলুম না। তখন ওরা সবাই পাকা হয়ে গেছে—আমরা দেখবার দলে। রবিকাকা তার কিছুকাল আগে বিলেত থেকে ফিরে এসেছেন। আমাকে দাদাকে ফিরে এসে আরবী জোব্বা দিলেন।

 সেদিন অভিনয়ে অনেকেই আসবেন—লাটসাহেবের মেমও বুঝি আসবেন। রবিকাকা আমাদের বললেন, তোমরা ভালো করে সেজে এসো।

 আমরা রবিকাকার দেওয়া সেই আরবী জোব্বা পরে দ্বারে দাঁড়িয়ে আছি অতিথি রিসিভ করতে।

 নটীর পূজা অভিনয় হল—নন্দলালের মেয়ে গৌরী নটী সেজেছে। ও যখন নটী হয়ে নাচল সে এক অদ্ভুত নাচ। অমন আর দেখি নি। ড্রপ পড়তেই ভিতরে গেলুম। গৌরীকে বললুম, আজ যে নাচ তুই দেখালি; এই নে বকশিশ। বলে রবিকাকার দেওয়া সেই জোব্বা গা থেকে খুলে দিয়ে দিলুম। ওকে আর কিছু বললুম না—নন্দলালকে বললুম, তোমার মেয়ে আজ আগুন স্পর্শ করেছে, ওকে সাবধানে রেখো।

 তার পরে আর-একবার দেখেছিলুম যখন ‘তপতী’ হয়েছিল। অমিতা তপতী সেজে অগ্নিতে প্রবেশ করছে। সেও এক অদ্ভুত রূপ। প্রাণের ভিতরে গিয়ে নাড়া দেয়। আমি ‘তপতী’র সমস্ত ছবি এঁকে রেখেছিলুম।

 পরে যত অভিনয়ই হয়েছে আজকাল, অমন আর দেখলুম না—সে সত্যি কথাই বলব।

 তাই তো একবার রবিকাকাকে বললুম, করলে কী রবিকাকা, ঘরের পিদিম নিভিয়ে ফেললে, এখন বাইরের পিদিম জ্বালিয়ে কী করবে।

 রবিকাকা বললেন, তা আর কী করা যায়, চিরকালই কি আর ঘরের পিদিম জ্বলে।

১৪২