পাতা:চিঠিপত্র (দ্বাদশ খণ্ড)-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩০৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বোলপুরের কোণে নেই– বেরিয়ে পড়েচে– এখন তার রথযাত্রা। আমি এতদূর আশা করি নি– কারণ গান্ধি তার সন্তাসীর কম্বল দিয়ে ভারতবর্ষকে বিশ্বের কাছ থেকে ঢাকা দিতে গিয়েছিলেন। প্রথম যখন দেশে ফিরে এলুম তখন দেখতে পেলুম বিশ্বমণ্ডলী থেকে ভারতবর্ষ দূরে চলে গেছে। ভারি উদ্বেগ মনে জেগেছিল। আজকের দিনে যখন সমস্ত জগতে একটি মহান ভাবী যুগের সাড়া এসেছে, অতিথি বলচেন অয়মহং ভোঃ, তখন ভারতবর্ষই বধির হয়ে তাকে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করলে তার অভিসম্পাং দুঃসহ হবে। যাই হোক এখন দেখতে পাচ্চি, মাঝে ভারতবর্ষের বিশ্বচৈতন্যকে জোর করে চাপা দেওয়া হয়েছিল বলেই সে নিজের বিরাটকে ফিরে পাবার দিকে উন্মুখ হয়ে উঠেচে । আশ্চর্য্য এই যে, আমি কোথাও এবার বাধা পাই নি । পথ এখন প্রতিদিন সুগম হয়ে আসচে এখন কেবল সহকারী সুহৃদবৃন্দের দরকার। এ পর্যন্ত পশ্চিম মহাদেশ থেকেই আনুকূল্যের প্রস্তাব এসেচে। এখন দেশের লোকের সহযোগিতার প্রতীক্ষায় আছি । প্রশাস্ত খুব কাজ করচে। তুমি ফিরে আসচ এতে আমার মন খুব আশান্বিত হয়ে উঠেচে । মনে রেখে তোমাকে আমি কিছুতেই ছাড়ব না। বিশ্বভারতীতে তুমি তোমার প্রশস্ত ক্ষেত্র পাবে। তুমি বিশ্বভারতীর জন্যেই যথাযথভাবে প্রস্তুত হয়ে আসূচ— আমি তাই তোমার প্রত্যাশায় উৎকণ্ঠিত হয়ে আছি । আমার নিজের হাতে আর বেশি সময় নেই— অস্তগমনের কলি কাছে আসচে– আমার শেষ দান তোমাদের হাতে দিয়ে ૨છે e