পাতা:চেনা দায় - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়.pdf/৪৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

৪৮

দারােগার দপ্তর, ৮৪ম সংখ্যা।


 “এই বলিয়া কষ্টিপাথর হস্তে লইয়া সেই স্বর্ণকার আমার সহিত আমার বাড়ীতে গমন করিলেন।

 “বাড়ীতে গিয়া সেই বাক্স হইতে আরও চারি পাঁচখানি অলঙ্কার বাহির করিয়া আনিয়া আমি সেই স্বর্ণকারের হস্তে প্রদান করিলাম। তিনি এক একখানি করিয়া সমস্তগুলিই কসিয়া দেখিলেন ও কহিলেন, “ইহার একখানিও সুবর্ণের নহে। সমস্তই পিত্তলের গহনা, সোণালি গিল্‌টি করা।”

 আমি। তাহা হইলে ত দেখিতেছি, আমার সর্ব্বনাশ হইয়াছে। আমার যথাসর্ব্বস্ব গিয়াছে।

 স্বর্ণকার। কেন, এই সকল গহনা রাখিয়া আপনি কত টাকাই দিয়াছেন যে, আপনার যথাসর্ব্বস্ব গিয়াছে?

 আমি। আমি আর দুঃখের কথা বলিব কি, আমি পূর্ব্বে আপনাকে যাহা বলিয়াছি, তাহার সমস্ত প্রকৃত নহে। আমি ইচ্ছা করিয়া দুই একটা মিথ্যা কথা কহিয়াছি। কেবল যে এই কয়খানি গহনাই আমি বন্ধক রাখিয়াছি, তাহা নহে; আমার যাহা কিছু ছিল, তাহাই যে কেবল গিয়াছে, তাহা নহে। তদ্ব্যতীত আমি ঋণগ্রস্ত হইয়া পড়িয়াছি। আমি আজীবনকাল পরিশ্রম করিয়া অতি কষ্টে কোনরূপে পাঁচ হাজার টাকার সংস্থান করিয়াছিলাম। তদ্ব্যতীত আর এক ব্যক্তির নিকট হইতে আরও দুই সহস্র মুদ্রা ঋণ করিয়া অধিক সুদের লোভে সেই সাত হাজার টাকা একজনকে কর্জ্জ দিয়াছিলাম। তিনি আমার নিকট প্রায় বিশ হাজার টাকা মূল্যের অলঙ্কার বন্ধক রাখিয়াছিলেন।

 “এই বলিয়া সেই বাক্সের ভিতর যতগুলি গহনা ছিল, সমস্তই আনিয়া সেই স্বর্ণকারের সম্মুখে উপস্থিত করিলাম।