পাতা:চৈতালি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.djvu/৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ক্যামেরার চোখ নিয়ে, ছোটো ছোটো ছবির ছায়া ছাপ দিচ্ছে অন্তরে । অল্প পরিধির মধ্যে দেখছি বলেই এত স্পষ্ট করে দেখছি। সেই স্পষ্ট দেখার স্মৃতিকে ভরে রাখছিলুম নিরলংকৃত ভাষায় । অলংকার-প্রয়োগের চেষ্টা জাগে মনে যখন প্রত্যক্ষবোধের স্পষ্টতা সম্বন্ধে সংশয় থাকে। যেটা দেখছি, মন যখন বলে এটাই যথেষ্ট, তখন তার উপরে রঙ লাগাবার ইচ্ছাই থাকে না । চৈতালির ভাষা এত সহজ হয়েছে এইজন্যেই। এর প্রথম কয়েকটি কবিতায় পূর্বতন কাব্যের ধারা চলে এসেছে। অর্থাৎ, সেগুলি যাকে বলে লিরিক । আমার অল্পবয়সের লেখাগুলিকে একদিন ছবি ও গান এই দুই শ্রেণীতে ভাগ করেছিলেম । তখন আমার মনে ছিল, আমার কবিতার সহজ প্রবৃত্তিই– ওই ছুটি শাখায় নিজেকে প্রকাশ করা । বাইরে আমার চোখে ছবি পড়ে, অস্তরে আমি গান গাই । চৈতালিতে অনেক কবিতা দেখতে পাই যাতে গানের বেদনা আছে, কিন্তু গানের রূপ নেই। কেননা, তখন যে আঙ্গিকে আমার লেখনীকে পেয়ে বসেছিল তাতে গানের রস যদি-বা নামে, গানের সুর জায়গা পায় না। [ श्रऽशब्लन s९४१ ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর