পাতা:জয়তু নেতাজী.djvu/১৩৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

নেতাজী

নাম-স্মরণ

 এই প্রবন্ধ যখন লিখিতেছি তখন বাংলার মহানগরী, বাঙালীর শতবর্ষব্যাপী সাধনার সাধন-পীঠ, তাহার নবজীবনযজ্ঞের পুরাতন যজ্ঞশালা এবং অধুনাতন মহাপাপের প্রেতভূমি—কলিকাতা ধ্বংস হইতেছে; কার্থেজ নয়, ট্রয় নয়—শ্রীকৃষ্ণের দ্বারকা বিধ্বস্ত, লুন্ঠিত ও ভস্মীভূত হইতেছে। ১৭৫৭ সালে বাঙালী যে পাপ করিয়াছিল, ১৮৫৭ সালে সে যে-পাপকে আরও বাড়াইয়া তুলিয়াছিল, এবং গত ২৫ বৎসর ধরিয়া যে পাপকে ঢাকিবার চেষ্টায় সে নিজের চরিত্র ও বুদ্ধি দুইয়েরই হত্যাসাধন করিয়াছে, আজ সেই পাপ মূর্ত্তি ধারণ করিয়া তাহাকে গ্রাস করিতেছে। বহু সাধক, বহু মহাত্মা বহু বীর সেই পাপের সহিত যুদ্ধ করিয়া প্রায়শ্চিত্তও করিয়াছে, কিন্তু কিছুতেই কিছু হইল না, আজ তাহার চরমকাল উপস্থিত। বাঁচাইবার কেহ নাই, একটি পুরুষও নাই যাহার মুখের দিকে সে চাহিবে, ক্লীব ও কাপুরুষ, ভণ্ড ও স্বার্থপর প্রবঞ্চকের দল নেতার ভূমিকা অভিনয় করিতেছে, ধর্ম্মের ধ্বজা উড়াইয়া—তাহার যেটুকু ধর্ম্মবোধ ছিল তাহাও হবণ করিয়াছে। এমন দিন বাংলায় আর কখনও আসে নাই। এই নীরন্ধ্র অন্ধকারে, মহামৃত্যুর ঘনায়মান ছায়ায় কেবল একজনকেই