হইয়াছিল?—সেই চিন্তা কি সে কখনও করিয়াছে? আজ এই যে সারাদেশ তাহাকে ‘নেতাজী’ নামে ডাকিয়া নিজেরই প্রাণের আকাঙ্ক্ষা মিটাইতেছে—ইহাও কি তাহাকে চরিতার্থ করিয়াছে? উহাতেই কি সে পরমপুরুষার্থ লাভ করিয়াছে? যদি ‘নেতাজী’ নামে তাহাকে ডাকিবার অধিকার আমাদের হইয়া থাকে, তবে এমন চিন্তা যেন আমাদের মনের কোণেও স্থান না পায়—নেতাজী-চরিত্রের সেইটুকুও বুঝিবার বুদ্ধিযােগ যেন আমরা লাভ করি।
ভারতবর্ষে কি আজ নেতার অভাব আছে? সুভাষচন্দ্র ‘নেতাজী’ হইতে পারেন, কিন্তু তিনি ত ‘নেতা’ নহেন। তৈয়ারী হয় ঐ একটি কারখানায়—সেখানকার ছাপ না থাকিলে, কেহই নেতা হইতে পারিবে না।[১]
সুভাষচন্দ্রকে নেতাজী নামে ডাকিলে—ঘােরতর সিডিসন হয়—গান্ধীজীর অবমাননা হয়, তাঁহার বিরুদ্ধাচরণ করা হয়—ইহা সত্য। বাহিরের ভাবভঙ্গি দেখিয়া ভুলিলে চলিবে না, ভিতরে চাহিয়া দেখ। কংগ্রেসী নেতৃমণ্ডল সুভাষচন্দ্রকে কোন্ চক্ষে দেখে? ‘নেতাজী’ নাম তাহাদের গলায় বাধে না? ‘জয় হিন্দ্’ বলিতে তারা কি সত্যই খুশী? সত্যকে চাপা দিয়া, মিথ্যা ভাব-সুখে ভাের হইয়া থাকিলে ধর্ম্মহানি হইবে; একই
- ↑ আবার স্বাধীন রাষ্ট্রের উচ্চতম পদগুলিও ঐ নেতারাই অধিকার করিবেন, ভারতে আর মানুষ নাই; রাজাগােপালাচারীর পর রাজেন্দ্রপ্রসাদ ভারতরাষ্ট্রের অধিপতি হইয়েন—মহাত্মার ___ কিনা!