পাতা:জয়তু নেতাজী.djvu/২৮৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

পরিশিষ্ট

২৪৩

কামী ব্যক্তিগণকে ব্যাকুল ও বিভ্রান্ত করিয়াছিল, গান্ধী প্রথম হইতেই তাহাকে অগ্রাহ্য করিয়াছিলেন। ধর্ম্মপ্রচারকের যে অন্ধ-প্রত্যয় ও সংকল্পের একাগ্রতা থাকে, তাহারই বশে তিনি স্বকীয় অভিপ্রায়সিদ্ধির জন্য আর কাহাকেও শক্তিসঞ্চয় বা স্বাধীন পন্থা অবলম্বন করিতে দেন নাই; এইজন্য তিনি কোন ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বা চারিত্রিক নির্ম্মলতা, ধৈর্য্য বা বুদ্ধিমত্তার আদর করেন নাই,——সেই সংকল্পসিদ্ধির জন্য, তিনি জনগণের উত্তরোত্তর দুর্দশাবৃদ্ধিও যেমন অবিচলিত চিত্তে দর্শন করিয়াছেন, তেমনই যে তাঁহার বশ্যতা স্বীকার করে নাই, তাহার প্রাণ যতই উচ্চ হউক, তাহার ত্যাগ ও সত্যনিষ্ঠা যতই অপূর্ব্ব হউক——তিনি তাহাকে কিছুমাত্র স্নেহ করেন নাই; ববং যাঁহারা সেই সকলের তুলনায় সর্ব্বাংশে নিকৃষ্ট, কিন্তু তাঁহার উদ্দেশ্য-সাধনের সহায়——তিনি তাহাদিগকেই অনুগৃহীত ও সম্বর্দ্ধিত করিয়াছিলেন। ইহাই স্বাভাবিক, কারণ, তিনি যাহা চান, তাহা ভারতবাসীর পক্ষে এই যুগে এবং ঐ অবস্থায় কোন হৃদয়বান, বুদ্ধিমান ও বীর্য্যবান দেশপ্রেমিকের কাম্য হইতে পারে না। অথচ তিনি তাহাদের সকলকেই বিপথগামী ও বিধর্ম্মচারী বলিয়া মনে করিতেন; ইহার কারণ, তাঁহার সেই নব-ধর্ম্মমন্ত্র;——মানুষ যত নিঃস্বার্থ, হৃদয়বান ও মৃত্যুভয়হীন হোক না কেন, যদি তাহার আচরণে ‘হিংসা’ থাকে, তবে তাহার সকল মহত্ত্বই বৃথা। এইজন্য দেখা যায়, গান্ধীর একটা বড় সমস্যা ছিল, ঐ কংগ্রেসকে আপন ব্যক্তিত্বের দ্বারা সম্পূর্ণ গ্রাস করিয়া তাহাকে নিজের সেই সংকল্পসিদ্ধির একটা যন্ত্ররূপে ব্যবহার করা; এইজন্যই, ত্রিশকোটি ভারতবাসীর মধ্যে জ্ঞানে, বিদ্যায়, চরিত্রে ও বুদ্ধিতে যে-কেহ তাঁহার প্রতিদ্বন্দী, তাহাকেই পরাস্ত করিবার জন্য, তিনি অশিক্ষিত, অজ্ঞানী, ভক্তিপ্রবণ সরল জনগণকে এক বিপুল বাহিনীতে পরিণত করিয়াছিলেন।