পাতা:জোড়া পাপী - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়.pdf/২৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

২৬

দারোগার দপ্তর, ২০৪ সংখ্যা।


পর অধিক রাত্রি হওয়ায় সকলেই গাত্রোত্থান করিলাম। সাদাচরণ আমাকে শয়নগৃহে লইয়া গেলেন, পীতাম্বরও সেই গৃহে শয়ন করিবেন বলিয়া আমাদের অর্থে অগ্রে যাইতে লাগিলেন।

 সারদাচরণ যে গৃহে আমাদিগকে লইয়া গেলেন, সেই ঘরখানি বেশ বড়। দৈর্ঘ্যে প্রস্থে পনের কিম্বা ষোল হাতের কম নহে। ঘরের মধ্যে দুইখানি খাটের উপর দুইটী শয্যা ছিল। একটা টেবিলের উপরে এক আলোকাধার হইতে মিট মিট করিয়া অলোক অতেছিল। সেই সামান্য আলোকে ঘরখানি প্রায় অন্ধকারময় বলিলেও অত্যুক্তি হয় না। সারদাচরণ আমাদিগকে সেই শয্যা দেখাইয়া দিয়া তথা হইতে প্রস্থান করিলেন। যাইবার সময় বলিয়া গেলেন, যেন শয়নের পূর্ব্বে আলোক নির্ব্বাপিত করা হয়।


 পীতাম্বরের অবস্থা দেখিয়া বোধ হইল, তিনি অত্যন্ত ক্লান্ত হইয়াছেন। আমিই তাহাকে অগ্রে শয়ন করিতে অনুরোধ করিলাম। তিনিও তখনই খাটের উপর গিয়া শয়ন করিলেন।

 কিছুক্ষণ পরে আমিও আলোক নির্বাপিত করিয়া অপর খাটখানির নিকট গমন করিলাম। আমরা যাইবার পূর্ব্বেই খাট দুই পানির উপর শয্যা রচিত হইয়াছিল। প্রত্যেক বিছানার উপর একটী করিয়া মসারি ও ফেলা ছিল।

 মসারির দরজা খুলিয়া আমি যখন শয্যায় শয়ন করিলাম, তখনই আমার মস্তক বিঘূর্ণিত হইল; আমি সহসা যেন এক অন্ধকূপের মধ্যে পড়িয়া গেলাম এবং নিমেষ মধ্যে হতচেতন হইয়া গড়িলাম।