পাতা:ডিটেক্‌টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়.pdf/৬৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

৫৮

ডিটেক্‌টিভ পুলিস, ১ম কাণ্ড।


 কিছু দিবসের মধ্যেই গোলাপকে ভুলিলাম, কিন্তু এক গোলাপের পরিবর্ত্তে শত গোলাপ আসিয়া জুটিল। তখন সোণাগাছির এমন কোন স্থান বাকি ছিল না, যে স্থানে আমার পদধূলি না পড়িয়াছিল। কিন্তু তখন আমার হস্তে একটীও পয়সা ছিল না; অতএব কি প্রকারে কিছু টাকা সংগ্রহ করিব, তাহার চিন্তায় নিযুক্ত হইলাম। ভাবিয়া ভাবিয়া তাহারও এক অভূতপূর্ব্ব উপায় বাহির করিলাম। পাঠকগণ মনোযোগ পূর্ব্বক পাঠ করিলে বুঝিতে পারিবেন যে, আমার পরিণামদর্শিতা কতদূর ছিল এবং আমি কি প্রকার চতুরতার সহিত সকল সময়ে কার্য্য করিয়াছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে, আমার এই প্রকার তীক্ষ্ণবুদ্ধিকে সৎপথে না চালাইয়া সতত অসৎপথ অবলম্বন করিতেই প্রশ্রয় দিয়াছি। আমি যে প্রকার নিকৃষ্টবৃত্তি অবলম্বন পূর্ব্বক অর্থ সংগ্রহের উপায় বাহির করিলাম, তাহা প্রথম হইতে ক্রমে বলিতেছি।

 আমার স্ত্রীর নিকট যে ২০০০৲ টাকা ছিল, তাহা লইয়া কলিকাতার নিকটবর্ত্তী একটী প্রসিদ্ধ স্থানে গমন করিলাম। তথায় একটা বড় গোছের বাটী ভাড়া লইলাম এবং ঐ দুই সহস্র টাকার দ্বারা কতকগুলি ঔষধ সংগ্রহ করিয়া একটা ঔষধালয় (ডিস্‌পেন্সারী) স্থাপিত করিলাম। বলা বাহুল্য, আমি “এম্, বি” ডাক্তার বলিয়া পরিচয় দিয়া চিকিৎসা করিতে লাগিলাম। ঐ চিকিৎসালয় আমার ছোট ভ্রাতার নামে স্থাপিত হইল। এক্সচেঞ্জ গেজেটে বিজ্ঞাপন বাহির করিয়া সর্ব্ব সাধারণকে জানাইতে লাগিলাম যে, এই ঔষধালয়ের