পাতা:তিনসঙ্গী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১০৯

এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
১০৭
ল্যাবরেটরি

 “সর্বনাশ! তা হলে নমস্কার সার আইজাক নিউটন।”  সেদিনকার পালা সংক্ষেপে এই পর্যন্ত।


“চৌধুরীমশায়, আর সবই চলছে ভালো কেবল আমার মেয়ের ভাবনায় সুস্থির হতে পারছি নে ও যে কোন্‌ দিকে তাক করতে শুরু করেছে বুঝতে পারছি নে।”

 চৌধুরী বললেন, “আবার ওর দিকে তাক করছে কারা সেটাও একটা ভাববার কথা। হয়েছে কি, এরই মধ্যে রটে গেছে ল্যাবরেটরি রক্ষার জন্যে তোমার স্বামী অগাধ টাকা রেখে গেছে। মুখে মুখে তার অঙ্কটা বেড়েই চলেছে। এখন রাজত্ব আর রাজকন্যা নিয়ে বাজারে একটা জুয়োখেলার সৃষ্টি হয়েছে।”

 “রাজকন্যাটি মাটির দরে বিকোবে তা জানি, কিন্তু আমি বেঁচে থাকতে রাজত্ব সস্তায় বিকোবে না।”

 “কিন্তু লোকের আমদানি শুরু হয়েছে। সেদিন হঠাৎ দেখি, আমাদেরই অধ্যাপক মজুমদার ওরই হাত ধরে বেরিয়ে এল সিনেমা থেকে। আমাকে দেখেই ঘাড় বেঁকিয়ে নিল। ছেলেটা ভালো ভালো বিষয়ে বক্তৃতা দিয়ে বেড়ায়, দেশের মঙ্গলের দিকে ওর বুলি খুব সহজে খেলে। কিন্তু সেদিন ওর বাঁকা ঘাড় দেখে স্বদেশের জন্যে ভাবনা হল।”

 “চৌধুরীমশায়, আগল ভেঙেছে।”

 “ভেঙেছে বৈকি। এখন এই গরিবকেই নিজের ঘটি-বাটি সামলাতে হবে।”

 “মজুমদার-পাড়ায় মড়ক লাগে লাগুক, আমার ভয় রেবতীকে নিয়ে।”

 চৌধুরী বললেন, “আপাতত ভয় নেই। খুব ডুবে আছে। কাজ