পাতা:তিনসঙ্গী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৫৫

এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
৫৩
শেষ কথা

হল যদি, আমাদের ওখানে যেতে হবে তো।”

 “কিছু বলতে হবে না, দাদু। যাবার জন্যে লাফালাফি করছেন। আমার কাছে শুনেছেন, দেশকালের একজোট তত্ত্ব নিয়ে তুমি ব্যাখ্যা করবে আইন্‌স্টাইনের কাঁধে চ’ড়ে।”

 মনে মনে বললুম, “সর্বনাশ। কী দুষ্টুমি।’

 অধ্যাপক অত্যন্ত উৎসাহিত হয়ে বললেন, “আপনার বুঝি Time-Space-এর-”

 আমি ব্যস্ত হয়ে বলে উঠলুম, “কিছু বুঝি নে Time-Space-এর। আমাকে বোঝাতে গেলে আপনার সময় নষ্ট হবে মাত্র।”

 বৃদ্ধ ব্যগ্র হয়ে বলে উঠলেন, “সময়! এখানে সময়ের অভাব কোথায়। আচ্ছা এক কাজ করুন-না, আজকে না-হয় আমাদের ওখানে আহার করবেন, কী বলেন।”

 আমি লাফ দিয়ে বলতে যাচ্ছিলুম, ‘এখ্‌খনি।’

 অচিরা বলে উঠল, “দাদু, সাধে তোমাকে বলি ছেলেমানুষ। যখন-তখন নেমন্তন্ন করে তুমি আমাকে মুশকিলে ফেলো। এই দণ্ডকারণ্যে ফিরপির দোকান পাব কোথায়। ওঁরা বিলেতের ডিনারখাইয়ে জাতের সর্বগ্রাসী মানুষ, কেন তোমার নাতনীর বদনাম করবে। অন্তত ভেটকি মাছ আর ভেড়ার ব্যবস্থা করতে হবে তো!”

 “আচ্ছা আচ্ছা, তা হলে কবে আপনার সুবিধে হবে বলুন।”

 “সুবিধে আমার কালই হতে পারবে। কিন্তু অচিরা দেবীকে বিপন্ন করতে চাই নে। ঘোর জঙ্গলে পাহাড়ে গুহাগহ্বরে আমাকে ভ্রমণে যেতে হয়। সঙ্গে রাখি থলে ভ’রে চিঁড়ে, ছড়া-কয়েক কলা, বিলিতি বেগুন, কাঁচা ছোলার শাক, চিনেবাদামও কখনো থাকে। আমি সঙ্গে নিয়ে আসব ফলারের আয়োজন, অচিরা দেবী দই দিয়ে স্বহস্তে মেখে আমাকে খাওয়াবেন, এতে যদি রাজি থাকেন তা হলে কোনো কথা থাকবে না।”

 “দাদু, বিশ্বাস কোরো না এ-সব লোককে। তুমি বাংলা মাসিকে