পাতা:তিনসঙ্গী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৭৩

এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
৭১
ল্যাবরেটরি

কৌশলী, সেই বাজারে নতুন নতুন খালে নালায় তাঁর মুনফার টাকায় বান ডেকে এল।

 এমন সময় আর-একটা শখ পেয়ে বসল ওঁকে।

 এক সময়ে নন্দকিশোর পাঞ্জাবে ছিলেন তাঁর ব্যাবসার তাগিদে। সেখানে জুটে গেল তাঁর এক সঙ্গিনী। সকালে বারান্দায় বসে চা খাচ্ছিলেন, বিশ বছরের মেয়েটি ঘাগরা তুলিয়ে অসংকোচে তাঁর কাছে এসে উপস্থিত— জ্বলজ্বলে তার চোখ, ঠোঁটে একটি হাসি আছে— যেন শান-দেওয়া ছুরির মতো। সে ওঁর পায়ের কাছে ঘেঁষে এসে বললে, “বাবুজি, আমি কয়দিন ধরে এখানে এসে দুবেলা তোমাকে দেখছি। আমার তাজ্জব লেগে গেছে।”

 নন্দকিশোর হেসে বললেন, “কেন, এখানে তোমাদের চিড়িয়াখানা নেই নাকি।”

 সে বললে, “চিড়িয়াখানার কোনো দরকার নেই। যাদের ভিতরে রাখবার, তারা বাইরে সব ছাড়া আছে। আমি তাই মানুষ খুঁজছি।”

 “খুঁজে পেলে!”

 নন্দকিশোরকে দেখিয়ে বললে, “এই তো পেয়েছি।”

 নন্দকিশোর হেসে বললেন, “কী গুণ দেখলে বলে দেখি।”

 ও বললে, “এখানকার বড়ো বড়ো সব শেঠজি, গলায় মোট সোনার চেন, হাতে হীরার আংটি, তোমাকে ঘিরে এসেছিল— ভেবেছিল বিদেশী, বাঙালি, কারবার বোঝে না। শিকার জুটেছে ভালো। কিন্তু দেখলুম তাদের একজনেরও ফন্দি খাটল না। উলটে ওরা তোমারই ফাঁসকলে পড়েছে। কিন্তু তা ওরা এখনো বোঝে নি— আমি বুঝে নিয়েছি।”

 নন্দকিশোর চমকে গেল কথা শুনে। বুঝলে, একটি চিজ বটে— সহজ নয়।

 মেয়েটি বললে, “আমার কথা তোমাকে বলি— তুমি শুনে রাখো। আমাদের পাড়ায় একজন ডাকসাইটে জ্যোতিষী আছে। সে আমার