পাতা:তিনসঙ্গী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৯৭

এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
৯৫
ল্যাবরেটরি

করছেন। সেই পথে সংগ্রহ এগিয়ে চলুক, যত দাম লাগে লাগুক-না।”

 “কী আর বলব, পুরুষমানুষ যদি হতে তোমাকে কাঁধে করে নিয়ে নেচে বেড়াতাম। তোমার স্বামী রেল কোম্পানির টাকা চুরি করেছিলেন, তুমি চুরি করে নিয়েছ তাঁর পুরুষের মনখানা। এমন অদ্ভুত কলমের জোড়লাগানো বুদ্ধি আমি কখনো দেখি নি। আমারও পরামর্শ নেওয়া তুমি যে দরকার বোধ করো, এই আশ্চর্য।”

 “তার কারণ আপনি যে খুব খাঁটি, ঠিক কথা বলতে জানেন।”

 “হাসালে তুমি। তোমাকে বেঠিক কথা বলে ধরা পড়ব, এত বড়ো নিরেট বোকা আমি নই—তা হলে লাগা যাক এবার জিনিসপত্র ফর্দ করা, দর যাচাই করা, ভালো উকিল ডেকে তোমার স্বত্ব বিচার করা, আইনকানুন বেঁধে দেওয়া ইত্যাদি অনেক হাঙ্গামা আছে।”

 “এ-সব দায় কিন্তু আপনারই।”

 “সেটা হবে নামমাত্র’। বেশ ভালো করেই জানো, যা তুমি বলাবে তাই বলব, যা করাবে তাই করব। আমার লাভটা এই যে দুবেলা দেখা হবে তোমার সঙ্গে। তোমাকে যে কী চক্ষে দেখেছি তুমি তো জানো না।”

 সোহিনী চৌকি থেকে উঠে এসে ধাঁ করে এক হাতে চৌধুরীর গলা জড়িয়ে ধরে চুমো খেয়ে চট করে সরে গেল, ভালোমানুষের মতো বসল গিয়ে চৌকিতে।

 “ঐ রে, সর্বনাশের শুরু হল দেখছি।”

 “সে ভয় যদি একটুও থাকত তা হলে কাছেও এগতুম না। এ বরাদ্দ আপনার জুটবে মাঝে মাঝে।”

 “ঠিক বলছ?”

 “ঠিকই বলছি। আমার এতে খরচ নেই, আপনারও যে বেশি কিছু পাওনা আছে, মুখের ভাব দেখে তা বোধ হচ্ছে না।”

 “অর্থাৎ বলতে চাও, এ হচ্ছে মরা কাঠে কাঠঠোকরার ঠোকর দেওয়া।—চললুম উকিলবাড়িতে।”