পাতা:তীর্থরেণু.djvu/৫৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
তীর্থরেণু

এল কাছে আরো,–এল ঘিরে এল ক্রমে এ যে!
আগুলি দুয়ার দাঁড়াও, যুঝিব প্রাণপণে;
কি গণ্ডগোল বাহিরে আজিকে ওঠে বেজে!
দৈত্য দানার হানা-দেওয়া ঘোর গর্জ্জনে।
বেঁকে নুয়ে পড়ে বাহাদুরী কড়িকাঠ যত,
জলজ কোমল নমনীয় লতিকার মত!
নাড়া পেয়ে কাঁপে পুরাণো জানালা দ্বার কত
মরিচায় জরা কবচের ক্ষীণ বন্ধনে।

বিমরি’ গুমরি’ গরজিছে এ যে নরকের কলরব!
উত্তর-বায়ু চলেছে তাড়ায়ে পিশাচ প্রেতের পাল!
এবার রক্ষা কর ভগবান! কালো পণ্টন সব
পদ-ভরে ভেঙে ফেলে বুঝি ছাদ! একি হ’ল জঞ্জাল!
প্রাচীর হেলিছে, দুলিছে, টলিছে, সারা গৃহ যেন কাঁদে;
সূর্য্য বুঝি গো কক্ষ ছাড়িয়া প্রলয়-ঝঞ্চা-ফাঁদে
পড়ে গিয়ে আজ কেবলি গড়ায় শুষ্ক পাতার ছাঁদে;
ঘুর্ণি হাওয়ায় টেনে নিয়ে যায়, দাঁড়ায় না ক্ষণকাল।

হজরৎ! আজ বান্দা ঠেকেছে বড় দায়,
নিশাচর পাপ পিশাচের হাতে কর ত্রাণ;
মুণ্ডিত শিরে বার বার নমি তব পায়,
ভয়বিহ্বলে নির্ভয় কর, রাখ প্রাণ।
এই কর প্রভু! কুহকী প্রেতের যত ছল,
ভকতের দ্বারে এসে হয় যেন হতবল;

৩২