পাতা:দুর্গেশনন্দিনী বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.djvu/৮১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৭৬
দুর্গেশনন্দিনী

মনোনিবেশ করা উচিত? উভয়ের মঙ্গল হেতু বলিতেছি, আপনি আমার সখীকে বিস্মৃত হইতে যত্ন করুন; যুদ্ধের উৎসাহে অবশ্য কৃতকার্য্য হইবেন।”

 যুবরাজের অধরে মনস্তাপ-ব্যঞ্জক হাস্য প্রকটিত হইল; তিনি কহিলেন, “কাহাকে বিস্মৃত হইব? তোমার সখীর রূপ, একবার দর্শনেই আমার হৃদয়মধ্যে গভীরতর অঙ্কিত হইয়াছে, এ হৃদয় দগ্ধ না হইলে তাহা আর মিলায় না! লোকে আমার হৃদয় পাষাণ বলিযা থাকে; পাষাণে যে মূর্ত্তি অঙ্কিত হয়, পাষাণ নষ্ট না হইলে, তাহা আর মিলায় না! যুদ্ধের কথা কি বলিতেছ, বিমলে! আমি তোমার সখীকে দেখিয়া অবধি কেবল যুদ্ধেই নিযুক্ত আছি। কি রণক্ষেত্রে—কি শিবিরে, এক পল সে মুখ ভুলিতে পারি নাই; যখন মস্তকচ্ছেদ করিতে পাঠান খড়্গ তুলিয়াছে, তখন মরিলে সে মুখ বে আর দেখিতে পাইব না, একবার ভিন্ন আর দেখা হইল না, সেই কথাই আগে মনে পড়িয়াছে। বিমলে! কোথা গেলে তোমার সখীকে দেখিতে পাইব?”

 বিমলা আর শুনিয়া কি করিবেন! বলিলেন, “গড়-মান্দারণে আমার সখীর দেখা পাইবেন। তিলোত্তমা সুন্দরী বীরেন্দ্রসিংহের কন্যা।”

 জগৎসিংহের বোধ হইল যেন, তাঁহাকে কালসর্প দংশন করিল। তরবারে ভর করিয়া অধোমুখে দণ্ডায়মান হইয়া রহিলেন। অনেকক্ষণ পরে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ত্যাগ করিয়া বলিলেন,—“তোমারই কথা সত্য হইল। তিলোত্তমা আমার হইবে না। আমি যুদ্ধক্ষেত্রে চলিলাম। শত্রুরক্তে আমার সুখাভিলাষ বিসর্জ্জন দিব।”

 বিমলা রাজপুত্রের কাতরতা দেখিয়া বলিলেন, “যুবরাজ! স্নেহের যদি পুরস্কার থাকিত, তবে আপনি তিলোত্তমা লাভ করিবার যোগ্য! একে