পাতা:নবীন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

১২

নবীন

সূর্য্যের আলো, সে-ও সাজলো শিশু, সারাবেলা সে কেবল ঝিকিমিকি কর’চে। ঐ তা’র কলপ্রলাপ। ওদের নাচে নাচে মর্মরিত হয়ে উঠলো প্রাণগীতিকার প্রথম ধুয়েটি।

ওরা অকারণে চঞ্চল।
ডালে ডালে দোলে, বায়ুহিল্লোলে
নব পল্লবদল।
ছড়ায়ে ছড়ায়ে ঝিকিমিকি আলো,
দিকে দিকে ওরা কী খেলা খেলালো,
মর্ম্মর তানে প্রাণে ওরা আনে
কৈশাের কোলাহল।
ওরা কান পেতে শােনে গগনে গগনে
নীরবের কানাকানি,
নীলিমার কোন্ বাণী
ওরা প্রাণঝরনাব উচ্ছল ধার,
ঝরিয়া ঝরিয়া বহে অনিবার,
চির-তাপসিনী ধরণীর ওরা
শ্যামশিখা হােমানল॥

 আবার একবার চেয়ে দেখো—অবজ্ঞায় চোখ ঝাপসা হয়ে থাকে, আজ সেই কুয়াশা যদি কেটে যায় তবে যাকে তুচ্ছ বলে দিনে দিনে এড়িয়ে গেছে। তাকে দেখে নাও তা’র আপন মহিমায়। ঐ দেখাে ঐ বনফুল, মহাপথিকের পথের ধারে ও ফোটে, তাঁর পায়ের করুণ স্পর্শে সুন্দর হয়ে ওঠে ওর প্রণতি।