প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:নারীর মূল্য-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.djvu/১২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


> S. নারীর মূল্য স্তম্ভ উঠিয়াছে, গল্পের মধ্যে, দৃষ্টাস্তের মধ্যে তখন সে স্ত্রীর দাম চড়িয়া গিয়াছে। পুরুষ যে কেবলমাত্র নিজের সুখ ও সুবিধা ব্যতীত,— সেটা সত্যই হোক আর কাল্পনিক হোক--আর কোনদিকে দৃষ্টিপাত করে নাই, সে-কথা চাপা দিয়া গর্ব করিয়া প্রচার করিয়াছে, “যে-দেশে । নারী হাসিতে হাসিতে চিতায় গিয়া বসিত, স্বামীর পাদপদ্ম ক্রোড়ে লইয়া প্রফুল্ল-মুখে নিজেকে ভস্মসাৎ করিত, ইত্যাদি ইত্যাদি—” । কিন্তু তাই যদি হয়, তবে স্বামীর মৃত্যুর পরই তাহার বিধবাকে একবাটি সিদ্ধি ও ধুতুরা পান করাইয়া মাতাল করিয়া দেওয়া হইত কেন ? শ্মশানের পথে কখন বা সে হাসিত, কখন কাদিত, কখন বা পথের মধ্যেই চুলিয়া ঘুমাইয়া পড়িতে চাহিত। এই তার হাসি, এই ভার সহমৃতা হইতে যাওয়া ! তার পর চিতায় বসাইয়া কাচা বাশের মাচা বুনিয়া চাপিয়া ধরা হইত, পাছে সতীদাহ-যন্ত্রণা আর সহ করিতে ন পারে। এত ধুনী ও ঘি ছড়াইয়া অন্ধকার ধুয়া করা হইত যে, কেহ তাহার যন্ত্রণ দেখিয়া যেন ভয় না পায় । এবং এত রাজ্যের ঢাক, ঢোল, কঁাসি ও শাখ সজোরে বাজানো হইত যে, কেহ যেন তাহার চীৎকার, কান্না বা অনুনয়-বিনয় না শোনে। এই ত সহমরণ ! আমি জানি, এখানে অনেক রকমের আপত্তি উঠিবে। প্রথমেই উঠিবে, দেশের লোকের সত্যই যদি এই বিশ্বাস থাকে যে, সহমৃতা সতী পরলোকে স্বামীর সহিত বাস করিতে পায় এবং সেইজন্যই এ অনুষ্ঠান,—তাহ হইলেও আমার এই উত্তর যে, দেশের অশিক্ষিত ইতর লোক কি বিশ্বাস করিত, না করিত, সে আলোচনায় লাভ নাই, কারণ তাহারা শুধু ভদ্র ও শিক্ষিতের অনুকরণ ও অনুগমন করিত মাত্র। কিন্তু যেদেশে তখনও টোল করিয়া মহামহোপাধ্যায়েরা সাংখ্য বেদান্ত পড়াইতেন, জন্মান্তর বিশ্বাস করিতেন, কর্ম-ফলে জীবের স্থাবর জঙ্গম পশু-জন্ম প্রচার করিতেন, দেবযান পিতৃযান প্রভৃতি পথের নির্দেশ করিতেন–র্তাহারা যে সত্যই বিশ্বাস করিতেন, পৃথিবীতে কর্মফল যাহার যাহা হোক, ছুইট প্রাণীকে একসঙ্গে বাধিয়া পোড়াইলেই