প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:নারীর মূল্য-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.djvu/২৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


নারীর মূল্য ૨ 8 করিতে লেশমাত্র দ্বিধা করিত না। দাতা কর্ণের মত, ধর্মের নামে পুত্র হত্যা করিতে অনেক দেশে অনেক রাজাকেই দেখা যায়। মেবারের রাজা পুত্র বলি দিয়াছিলেন, কার্থেজের রাজা দেবতার সম্মুখে কন্যা বধ কবিয়াছিলেন। প্রাচীন দিনের বোধ করি এমন একটি দেশও বাকী নাই, যেখানে ধর্মের নামে সন্তান-হত্য ঘটে নাই। তবে কি, তখনকার দিনে পিতা-মাতার সন্তানকে ভালবাসিত না ? বাসিত নিশ্চয়ই, কিন্তু কোথায় ছিল তখন স্নেহ-মমতা ? থাকিতে পায় না। প্রথা যখন একবার ধর্ম হইয়। দাড়ায়, দেবতা প্রসন্ন হন, পরকালের কাজ হয় ; তখন কোন নিষ্ঠুরতাই আর অসাধ্য হয় না। বরঞ্চ, কাজ যত নিষ্ঠুর, যত বীভৎস হয়, পুণ্যের ওজনও সেই পরিমাণে বৃদ্ধি পায়। সন্তান বলিয়া পিতা-মাতা আর তখন মুখ ফিরাইয়া দাড়ায় না। কোন কোন ক্ষেত্রে মায়া-মমতা হয়ত বাধা দিতেও আসে, কিন্তু তখন আর উপায় থাকে না। স্বার্থের জন্য পুরুষ সাধারণভাবে একবার যে প্রথাকে ধর্মের অনুশাসন বলিয়া প্রতিষ্ঠা করে, পিত। হইয়। আর সেই প্রথাকে নিজের সন্তানের বেলা অতিক্রম করিতে পারে না । 峨 পঞ্চাশ বৎসরের বৃদ্ধের সহিত যখন তাহাকে বালিকা কন্যার বিবাহ দিতে হয়, হয়ত তাহার ক্ষণকালের জন্য বুকে বাজে কিন্তু উপায়ও সে খুজিয়া পায় না। তাহাকে জাত বঁাচাইতে হইবে, ধর্ম রক্ষা করিতে হইবে। যে প্রথা সে পুরুষ হইয়া, সমাজের একজন হইয়া নিজের হাতে গড়িয়াছে, এখন সেই প্রথা তাহাকে এক হাতে চোখ মুছায়, আর এক হাতে সম্প্রদান করিতে বাধ্য করে। স্নেহের এতবড় জোর নাই যে, তাহাকে এই নির্দয় কর্ম হইতে বিরত করিতে পারে। সুতরাং দেখা যায়, স্নেহ-মায়া-দয়া থাকা সত্ত্বেও লোকে অমঙ্গল করিতে পারে, এবং পরম আত্মীয় হইয়াও পরম শত্রুর মতই ক্লেশ দিতে পারে। আজ সে স্বার্থের কথা মনে করিতে পরিবে না। জানি এখন সে ধর্মের দোহাই পাড়িয়াই আপনাকে শাস্ত করিবে। কিন্তু কোথায় ইহার সুদূর