প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:নারীর মূল্য-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.djvu/২৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


নারীর মূল্য Հեր যাইবে না, এ-সমস্ত দুরূহ বিষয়ে তাহদের হাত দিতে যাওয়৷ অনধিকার-চর্চা । এ-সমস্ত প্রশ্ন নিম্পত্তি করার অধিকার দেশের শুধু হইয়াছে। স্বৰ্গীয় বিদ্যাসাগরের মত র্যাহাদিগকে সমাজের ভাল-মন্দ স্থির করিয়া দিতে ভগবান নিজের হাতে গড়িয়া পাঠাইয়াছেন, র্যাহদিগকে দেশের লোক বড় বলিয়া মানিয়া লইয়াছে, এ-সমস্ত সামাজিক প্রশ্নের ভারও দেশের সেই সমস্ত মহৎ লোকের উপর—ব্রাহ্মণপণ্ডিতের উপর নহে। কেমন করিয়া জানিবে ইহার শাস্ত্র, কেন শাস্ত্র ? কোনটা প্রতারণা ? কি করিয়া বুঝিবে ইহার, তখন কি দোষ-গুণ সমাজে বিদ্যমান ছিল, এখন কি দোষ-গুণ আছে ? কোন টোলে এ আলোচনা হয় ? কোন স্মৃতিরত্বের এ আলোচনা করিবার ধৈর্য এবং সাহস আছে ? নিজের দলটি ছাড়া ইহাদের কাছে সবাই স্লেচ্ছ, সবাই অশুচি। নিজেদের মতটি ছাড়া সমস্তই অশাস্ত্রীয় । নিজেদের আচারব্যবহার ভিন্ন জগতের সমস্ত আচার-ব্যবহারই কদর্য এবং হীন । এক কথায় নিজের ছাড়া আর কেহ মানুষই নয়। কালের সঙ্গে সঙ্গে যে নিয়মও বদলায়, এ সত্যের ইহার কোন ধার ধারে না। তাই সময়োপযোগী কোন একটা নূতন পন্থা অবলম্বনের চেষ্ট হইবামাত্রই ইহারা ভয়ে সারা হইয়া যায়। কাদা-কাদে হইয়া জানায়, শাস্ত্রের শ্লোকে খুজিয়া মিলিতেছে না, এবং প্রাণপণে বাধা দিয়া মনে করে, দেশের উপকার হইতেছে—শাস্ত্র বজায় হইতেছে। অথচ ইহারাই কি সমস্ত শাস্ত্র মানিয়া চলে ? শাস্ত্রে আছে, রাক্ষস-বিবাহ । শাস্ত্রে আছে, অস্থর-বিবাহ। শাস্ত্রে আছে, ক্ষেত্রজ সন্তানের বিধি। আধুনিক সমাজে এইগুলা মুরু হইয়া গেলে, ইহারাই কি ভাল মনে করে ? অথচ কেন করে না, জিজ্ঞাসা করিলেও ঠিকমত জবাব দিতে পারে না। তখন ঘুরাইয়া ফিরাইয়৷ নানারকম করিয়া বলিবার চেষ্টা করে, দেশাচার, নয়—তেমন আবশ্বকেও নয়—ভাল নয়—মানুষের নৈতিক বুদ্ধি অনুমোদন করে না, ইত্যাদি ইত্যাদি। অর্থাৎ, এ-কথা শাস্ত্রে