প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:পণ্ডিতমশাই-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.djvu/৮৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দ্বাদশ পরিচ্ছেদ brú ছিল । বিরক্ত হইয়া বলিল, শাস্ত্র আনি বিশ্বাস করি, কিন্তু আপনাদের মন-গড়া শাস্ত্র মানি নে। যা বলেছি তাই হবে, আমি ওর জলে ময়ল ধুতে দেব না। আর কেউ ম’লে ও সব কাপড় পুড়িয়ে ফেলত, কিন্তু আপনার যখন সে মায়া ত্যাগ করতে পারবেন না, তখন মাঠের ডোব থেকে পরিষ্কার করে আতুন, আমার পুকুরে ওসব চলবে না, বলিয়া ভিতরে চলিয়া গেল । - শাস্ত্রজ্ঞানী ঘোষাল মহাশয় বৃন্দাবনের সৰ্ব্বনাশ কামনা করিতে করিতে চলিয়া গেলেন । কিন্তু বৃন্দাবন ঠিক জানিত, এইখানে ইহার শেষ নয়, তাই সে একটা -লোককে পুষ্করিণীর জল পাহারা দিবার জন্ত পাঠাইয় দিল। লোকট সমস্ত দিনের পর রাত্রি নয়টার সময় আসিয়া সংবাদ দিল, পুকুরের জলে কাপড় কার্ট হইতেছে এবং তারিণী মুখুজ্যে কিছুতেই নিযেধ গুলিতেছেন না। বৃন্দাবন ছুটিয়া গিয়া দেখিল, তারিণীর বিধবা কন্যা বালিশের আড়, বিছানার চাদর, ছোট বড় অনেকগুলি বস্তুখণ্ড জলে কাচিয়া জলের উপরেই সেগুলি নিঙড়াইয়া লইতেছে, তারিণী নিজে দাড়াইয়া আছে। .** দ্বাদশ পরিচ্ছেদ পরদিন সকালেই বৃন্দাবন জননীর নির্দেশমত চরণকে কাছে ডাকিয়া কহিল, তোর মায়ের কাছে যাবি রে চরণ ? চরণ নাচিয়া উঠিল—যাব বাবা। বৃন্দাবন মনে মনে একটু আঘাত পাইয়া বলিল, কিন্তু সেখানে গিয়ে তোকে অনেক দিন থাকতে হবে। আমাকে ছেড়ে পারব থাকৃতে ? চরণ তৎক্ষণাৎ মাথা নাড়িয়া বলিল, পাব।