পাতা:পদাবলী-মাধুর্য্য.djvu/১২০

এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
১১৪
পদাবলী-মাধুর্য্য

 এই গানগুলিতে ব্যঙ্গের আপাততঃ উপভোগ্য রস হইতে আর একটা রসের দিক্ আছে, তাহাতে শ্লেষের উপর খুব রং-চড়ান হইয়াছে। কৃষ্ণের ত্রস্ততার সহিত যোগ রাখিয়া প্রথম গানটির তাল দেওয়া হইয়াছে। কিন্তু বৃন্দার “কি কহবি রে মাধব” গানটির তাল, খুব বিলম্বিত, বৃন্দার ছলকরা ব্যস্ততার সহিত এই বিলম্বিত তালের একবারেই ঐক্য হয় না। তাহার কথাগুলি এত ধীর ছন্দে গীত হয়—যে, তাহাতে ত্রস্ততার চিহ্ন মাত্র নাই; “কি কহব—রে মাধব অ অ, তুরতহি কহ কহ—অ অ, হাম হাম যাওব আন কাজে—এ এ”, এই একটি ছত্র গাহিতেই পুরো এক মিনিট সময় লাগিবে। এই বিলম্বিত ছন্দ দ্বারা কবি রহস্যের মাত্রা খুব বাড়াইয়াছেন; বৃন্দা বহু কষ্টে হারাণো ধন পাইয়াছেন, তাঁহাকে কি সহজে ছাড়িয়া দিতে পারে! সে মুখে ত্রস্ততার ভাণ করিতেছে, কিন্তু কণ্ঠের ছন্দে প্রতিবাদ করিতেছে।

 বৃন্দা শেষে কৃষ্ণের অপরাধের কথা বলিল। কৃষ্ণ বহু সাধাসাধি করিয়াছেন—কিন্তু রাধা তাঁহাকে উপেক্ষা করিয়াছেন, এই কথার উত্তরে সে বলিল।

“দুতি কহত তুয়া,
কৈছন পীরিতি রীতি বুঝই নাই পারি।
সো যদি মান ভরমে তোহে রোখল,
তুহুঁ কাহে আওড় ছোড়ি”—

তোমার প্রেমের রীতি, আমি বুঝি না, সে যদি ভ্রমেই মান করিয়া রাগ করিয়াছিল, তুমি তাকে ছাড়িয়া আসিলে কোন্‌ প্রাণে? বৃন্দা আরও বলিল, রাই প্রায়শ্চিত্ত করিবেন, তোমার জন্য যে অপবাদ হইয়াছে—ইহা তাহারই প্রায়শ্চিত্ত, আমি ব্যবস্থার জন্য যাইতেছি, দেরি করিতে পারিব না। এ-কথা শুনিয়া কৃষ্ণের মুখখানি শুকাইয়া