পাতা:পল্লী-সমাজ.djvu/১৭৩

এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
১৭১
পল্লী-সমাজ


একটা সান্ত্বনা জ্যাঠাইমা, তিনি ফিরে এসে দেখ্‌বেন, তাঁর সুখের ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়ে আছে। যা’ তিনি চেয়েছিলেন, তাঁর সেই দেশের চাষাভুষারা এবার ঘুম-ভেঙ্গে উঠে বসেচে। তাঁকে চিনেছে, তাঁকে ভালবেসেছে। এই ভালবাসার আনন্দে তিনি আমার অপরাধ কি ভুল্‌তে পার্‌বেন না জ্যাঠাইমা?” বিশ্বেশ্বরী কথা কহিতে পারিলেন না। শুধু তাঁহার চোখ হইতে এক ফোঁটা অশ্রু গড়াইয়া রমার কপালের উপর পড়িল। তারপর বহুক্ষণ পর্য্যন্ত উভয়েই স্তব্ধ হইয়া রহিলেন। রমা ডাকিল,—“জ্যাঠাইমা?” বিশ্বেশ্বরী বলিলেন,—“কেন মা?” রমা কহিল,—“শুধু একটা যায়গায় আমরা দূরে যেতে পারিনি। তোমাকে আমরা দুজনেই ভালবেসেছিলাম।” বিশ্বেশ্বরী আবার নত হইয়া তাহার ললাট চুম্বন করিলেন। রমা কহিল,—“সেই জোরে আমি একটা দাবী তোমার কাছে রেখে যাব। আমি যখন আর থাক্‌ব না, তখনও আমাকে যদি তিনি ক্ষমা কর্‌তে না পারেন, শুধু এই কথাটি আমার হ’য়ে তাঁকে বোলো জ্যাঠাইমা, যত মন্দ ব’লে আমাকে তিনি জান্‌তেন, তত মন্দ আমি ছিলাম না। আর যত দুঃখ তাঁকে দিয়েচি, তার অনেক বেশী দুঃখ যে আমিও পেয়েচি,—তোমার মুখের এই কথাটি হয় ত তিনি অবিশ্বাস কর্‌বেন না।” বিশ্বেশ্বরী উপুড় হইয়া পড়িয়া, বুক দিয়া রমাকে চাপিয়া ধরিয়া কাঁদিয়া ফেলিলেন। বলিলেন, “চল্‌ মা, আমরা কোন তীর্থে গিয়ে থাকি। যেখানে বেণী নেই, রমেশ নেই—যেখানে চোখ তুল্‌লেই ভগবানের মন্দিরের চূড়া