পাতা:পাষাণের কথা.djvu/১৩৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
পাষাণের কথা

অপেক্ষাকৃত পরিষ্কৃত হইয়া উঠিয়াছিল। নিদাঘে দ্বিপ্রহরে নানাবিধ মৃগ আসিয়া বৃক্ষতলে আশ্রয় গ্রহণ করিত, ও সন্ধ্যাগমে পুনরায় নিবিড় বনমধ্যে প্রস্থান করিত। তবে বৃক্ষের আকারবৃদ্ধির সহিত আর একটি ঘটনা ঘটিতেছিল, তাহাতে আমাদিগের বিশেষ উপকার হয় নাই। বৃক্ষের শাখাপ্রশাখাসমূহের ভারে নানাস্থানে দণ্ডায়মান প্রাচীন স্তূপবেষ্টনীর স্তম্ভগুলি ক্রমশঃ পতিত হইতেছিল, বৃক্ষকাণ্ডের স্থূলতাবৃদ্ধির সহিত মূলগুলির সংখ্যা ও অবয়ববৃদ্ধি হইতেছিল এবং তাহার ফলে বহুপ্রাচীন পরিক্রমণের পথের পাষাণখণ্ডগুলি স্থানচ্যুত ও উৎপাটিত হইতেছিল। কতকাল ধরিয়া অশ্বত্থবৃক্ষ ধ্বংসাবশিষ্ট স্তূপের বিনাশসাধনে প্রবৃত্ত ছিল তাহা বলিতে আমি অক্ষম। কিন্তু সে বহুকাল হইবে। এই দীর্ঘকালের মধ্যে মানবের আকার আমাদিগের নয়নগোচর হয় নাই। সময়ের প্রারম্ভ হইতে সেই সময় পর্য্যন্ত যাহা কিছু দেখিয়াছিলাম সর্ব্বদা সেই কথাই চিন্তা করিতাম। হরিদ্বর্ণ, শৈবালসমাচ্ছাদিত রক্ত প্রস্তরকণমণ্ডলীর মধ্যে সর্ব্বদাই প্রাচীন কাহিনীর আলোচনা হইত। সকলেই পুনরায় মানবদর্শনের আকাঙ্ক্ষায় ব্যাকুল হইয়া থাকিত। গ্রীষ্মের পর বর্ষা, বর্ষার পর শীত, এইরূপ ভাবে দীর্ঘকাল অতিবাহিত হইল। মানবের চিরপরিচিত পদশব্দ আমাদিগের আর কর্ণগোচর হইল না।

 কোন কোনও দিন দ্বিপ্রহরে পিপাসিত মৃগসমূহ জলাম্বেষণে আসিয়া অশ্বত্থ বৃক্ষতলে বিশ্রাম করিত, ইহাদিগের পদচিহ্ন বর্ষা ব্যতীত অপর সময়ে সপ্তাহকাল পর্য্যন্ত বৃক্ষতলে দৃষ্ট হইত। একদিন প্রভাতে দীর্ঘাকার, ক্ষীণদেহ একটি ব্যাঘ্র বৃক্ষতলে ক্লান্তি দূর করিতেছিল এবং সময়ে সময়ে উৎকর্ণ হইয়া বনমধ্য হইতে আগত পদশব্দ লক্ষ করিতেছিল। অল্পক্ষণ পরে বহু দূরে হস্তিপদশব্দ শ্রুত হইল। সেই পদশব্দ বনবাসী স্বাধীন

১২৭