পাতা:পাষাণের কথা.djvu/৪২

এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।

পাষাণের কথা

 ক্ষেত্রমধ্যে অর্দ্ধগোলকাকার স্তূপ নির্ম্মিত হইল; সমান্তরালে, সমভাবে, সমান আকারের প্রস্তরখণ্ড যোজনা করিয়া শতহস্ত উচ্চ স্তূপ নির্ম্মিত হইল। শেষে তাহার কয়েকখণ্ড প্রস্তরমাত্র পড়িয়া ছিল; আর অশ্মরাশি নিকটবর্ত্তী গ্রামবাসিগণ সহস্র বর্ষকাল ব্যাপিয়া আপনাদের প্রয়োজনে লইয়া গিয়াছিল; এতদিনে হয় ত সে কয়খানিও অন্তর্হিত হইয়াছে। এখন সেই রক্তবর্ণ, মসৃণ প্রস্তরে নির্ম্মিত অর্দ্ধগোলকাকার বিশাল স্তূপের পরিবর্ত্তে কি দেখিয়া আসিয়াছ? শ্রমজীবিগণের পদধূলি সঞ্চিত করিলে সেরূপ মৃৎপিণ্ড নির্ম্মিত হইতে পারিত। স্তূপের ক্ষেত্র বৃত্তাকার, সুতরাং তাহার বেষ্টনীও বৃত্তাকার। স্তূপের পার্শ্বে পঞ্চহস্ত বিস্তৃত পরিক্রমণের পথ; এই পথও পূর্ণ বৃত্তাকার ছিল। তির্য্যগ্‌ভাবে যোজিত প্রস্তরখণ্ডের সমাবেশ করিয়া এইপথ নির্ম্মিত হইয়াছিল। পরিক্রমণের পথ বলিলে সহজবোধগম্য হইবে না, কালে তীর্থযাত্রীর ভাষাও পরিবর্ত্তিত হইয়াছে; তাহারা এখনও পরিক্রমণ করিয়া থাকে, পূজ্যব্যক্তির বা বস্তুর অর্চ্চনার পূর্ব্বে বা পরে প্রদক্ষিণ করিবার প্রথা এখনও তীর্থযাত্রীদিগের মধ্যে বর্ত্তমান আছে—ইহাই পরিক্রমণ। পুণ্যার্থী পূর্ব্ব তোরণ দিয়া স্তূপবেষ্টনের মধ্যে প্রবেশ করিয়া প্রথমে পুষ্পাঞ্জলি প্রদান করিত; পরে পরিক্রমণের পথ তিনবার বা সাতবার অতিক্রম করিয়া পুনরায় স্তূপ অর্চ্চনা করিত। স্তূপ নির্ম্মাণের কাল হইতে মুসলমান-সমাগমকাল পর্য্যন্ত অর্চ্চনার এই প্রথাই প্রচলিত ছিল। তাহার পর আর কেহ স্তূপের অর্চ্চনা করে নাই। সে অনেক পরের কথা। স্তূপবেষ্টনীর পরে ত্রিহস্তপরিমিত স্থান ছিল, ইহার পরে বৃত্তাকার প্রথম স্তম্ভশ্রেণী। সমান্তরালে স্তম্ভশ্রেণীর মধ্যে চারিদিকে চারিটি তোরণ ছিল ও প্রতি তোরণের সম্মুখে এক একটি আবরণ স্থাপিত

৩০