পাতা:পাষাণের কথা.djvu/৫৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

পাষাণের কথা

ঊর্দ্ধে শ্বেতহস্তী। ভগবান শ্বেত হস্তীর আকার ধারণ করিয়া মায়াদেবীর গর্ভে আশ্রয় লইতেছেন। অপর স্তম্ভে বৃত্তমধ্যে পর্ব্বতশ্রেণী অঙ্কিত রহিয়াছে, পর্ব্বতের মধ্যদেশে বিশাল গুহা ও তন্মধ্যে রত্নখচিত আসন। আসনের ঊর্দ্ধে ছত্র। চতুষ্পার্শ্বে উপাসকগণ উপবিষ্ট রহিয়াছেন। গুহার বহির্দ্দেশে সিংহ, শৃগাল, ময়ূর, বানর প্রভৃতি নানা জীব অঙ্কিত রহিয়াছে। গুহা-দ্বারের সান্নিধ্যে সপ্ততন্ত্রী বীণাহস্তে লইয়া গন্ধর্ব্ব পঞ্চশিখ দণ্ডায়মান। ইহা ইন্দ্র-শিলাগুহা। একদা বর্ষাকলে ভগবান শাক্যমুনি যখন রাজগৃহ শৈলমালার সঙ্গিহীন শৈলশিখরে পর্ব্বত-গুহায় বাস করিতেছিলেন, তখন জ্ঞান-লিপ্সাপ্রণোদিত হইয়া বাসব গুহাদ্বারে উপস্থিত হইয়াছিলেন ও বুদ্ধদেবকে কয়েকটি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করিয়াছিলেন। প্রকৃত বিশ্বাসীরা কহিয়া থাকেন যে, অশ্মখণ্ডের উপরে ভগবানের অঙ্গুলি-চালনার চিহ্ণ অদ্যাপি বর্ত্তমান আছে; বৌদ্ধজগতে ইহার নাম ইন্দ্রশিলাগুহা। যতক্ষণ পর্য্যন্ত ভগবান প্রশ্নের মীমাংসা করিতেছিলেন ততক্ষণ পঞ্চশিখ বীণাসংযোগে সঙ্গীতধ্বনি করিতেছিলেন। অপর স্তম্ভে মৃগজাতকীয় চিত্র। বৃত্তমধ্যে তিনটি বৃক্ষ; দক্ষিণপার্শ্বে পলায়নপর মৃগযূথ, মধ্যদেশে গর্ত্তমধ্যে পতিত একটি বৃহৎ মৃগ ও গর্ত্তের পার্শ্বে স্তুতিশীল মনুষ্যত্রয়, বামপার্শ্বে জনৈক মনুষ্য মৃগযূথের প্রতি শরত্যাগ করিতেছে। কথিত আছে, কোন এক পূর্ব্বজন্মে ভগবান শাক্যমুনি মৃগযূথপতি ছিলেন। একদা জনৈক ব্যাধ মৃগকুল তাড়না করিলে একটি গর্ভবতী মৃগী পলায়নে অক্ষম হইয়া যূথপতিকে সম্বোধন করিয়া কহে, “আমি পলায়নে অক্ষম ও আমি নিহত হইলে আমার গর্ভস্থ ভ্রুণ পর্য্যন্ত নিহত হইবে।” ইতিমধ্যে ধাবমান যূখের সম্মুখে একটি গর্ত্ত দেখিয়া হরিণী পলায়নে বিরত হইল।

৪৪