পাতা:পূরবী-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.djvu/২১৯

এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।

বনস্পতি

পূর্ণতার সাধনায় বনস্পতি চাহে ঊর্দ্ধপানে;
পুঞ্জ পুঞ্জ পল্লবে পল্লবে
নিত্য তা’র সাড়া জাগে বিরাটের নিঃশব্দ আহ্বানে,
মন্ত্র জপে মর্ম্মরিত রবে।
ধ্রুবত্বের মূর্ত্তি সে যে, দৃঢ়তা শাখায় প্রশাখায়
বিপুল প্রাণের বহে ভার।
তবু তা’র শ্যামলতা কম্পমান ভীরু বেদনায়
আন্দোলিয়া উঠে বারম্বার॥

দয়া কোরো, দয়া কোরো, আরণ্যক এই তপস্বীরে,
ধৈর্য্য ধরো, ওগো দিগঙ্গনা,
ব্যর্থ করিবারে তায় অশান্ত আবেগে ফিরে ফিরে
বনের অঙ্গনে মাতিয়ো না।
এ-কী তীব্র প্রেম, এ যে শিলাবৃষ্টি নির্ম্মম দুঃসহ,—
দুরন্ত চুম্বন-বেগে তব
ছিঁড়িতে ঝরাতে চাও অন্ধ সুখে, কহ মোরে কহ,
কিশোর কোরক নব নব॥

অকস্মাৎ দস্যুতায় তা’রে রিক্ত করি’ নিতে চাও
সর্ব্বস্ব তাহার তব সাথে?
ছিন্ন করি’ লবে যাহা চিহ্ন তা’র রবে না কোথাও,
হবে তা’রে মুহূর্ত্তে হারাতে।