পাতা:পৃথিবীর ইতিহাস - প্রথম খণ্ড (দুর্গাদাস লাহিড়ী).pdf/১৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8 ভারতবধ । গুঞ্জরিত ; এখানে, বসন্তের মৃত্মদ মলয়ানিলে মনঃপ্রাণ স্নিগ্ধ-পরিশ্নত ; এখানে, মধুবনে কোকিল-পাপিয়া-তামার সুমধুর সুস্বর-লহরীতে ভারত-কানন প্রতিধ্বনিত । আবার এখানে, গ্রীষ্মের প্রখর মাৰ্ত্তণ্ড-কিরণ, প্রাবৃটের প্রবল বারিবর্ষণ, শীতের প্রচণ্ড হিমানীসম্পাত !—একাধারে এ বৈচিত্র্য পৃথিবীর আর কোথায় আছে ? এখানে, হিমালয়ের উচ্চ-শৃঙ্গে আরোহণ কর, শীতে হিমানীতে শরীর সঙ্কুচিত হইবে ; এখানে, গ্রীষ্মের প্রখর মাৰ্ত্তও-তাপ যদি অনুভব করিতে চাও, দক্ষিণাত্যে বিষুব-সান্নিধ্যে সে আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হইবে ; আর যদি এখানে, সুজলা সুফলা শস্যামল মূৰ্ত্তি দেখিতে চাও, তোমার সম্মুখেই—এই বঙ্গদেশেই—সে নয়নাভিরাম মূৰ্ত্তি বিরাজমান। কোমলে-কঠোরে, মোহনে-ভীষণে, সৌন্দর্য্যে-গাম্ভীর্য্যে এমন একত্র সমাবেশ-ভারতবর্ষ ভিন্ন বুঝি অন্য কোথায়ও আর নাই! ভারতবর্ষের শ্রেষ্ঠত্ব অবিসম্বাদিত । পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ পৰ্ব্বত হিমালয়—সে এই ভারতবর্ষে ! পৃথিবীর পবিত্র নদী-পুণ্যপূত ভাগীরথী—সে এই ভারতবর্ষে ! পৃথিবীর বর্ণশ্রেষ্ঠ ব্রাহ্মণ—সে এই ভারতবর্ষে ! পৃথিবীর আদি-বাণী বেদ-সে এই ভারতবর্ষে ! পৃথিবীর আদি-ধৰ্ম্মের উৎপত্তি-স্থান—সে এই তারতবর্ষে ! এখনও—ভারতবর্ষের এতাদৃশ অধঃপতনের দিনেও—পৃথিবীর অধিকাংশ লোক যে ধৰ্ম্মের অমুসরণকারী— সে ধৰ্ম্মও এই ভারতবর্ষেরই ! প্রকৃতি যেন আপন অনুপম শ্রেষ্ঠ সম্পদে ভারতবর্ষকে সাজাইয়া রাখিয়াছেন। ভারতবর্ষের দৃপ্তাবলী মনঃপ্রাণবিমুগ্ধকারী ; ভারতবর্ষের ন্যায় ভূমির উর্বর-শক্তিই বা কোথায় আছে ? ভারতবর্ষের ন্যায় বিবিধ শস্ত-সম্পদ ও বিচিত্র জীবজন্তুর একত্র-সমাবেশই বা কোথায় দেখিতে পাই ? ফলতঃ, সমগ্র পৃথিবীর সার-সামগ্ৰী লইয়াই বিধাতা যেন ভারতবর্ষের সৃষ্টি করিয়াছেন । আপনার দেশ—আপনার জন্মভূমি বলিয়া, অযথা গৌরব-গরিমা প্রকাশ করিতেছি না । ভারতবর্ষের বিপুল-বৈভবের প্রতি যাহারই দৃষ্টি পড়িয়াছে, তিনিই বিস্ময়-বিহবল হইয়াছেন। পাশ্চাত্য পণ্ডিতগণের মধ্যে ম্যাক্সমুলারের স্থান কত উচ্চে, గాణా কে না অবগত অাছেন ? তারতবর্যের প্রসঙ্গ যখনই তিনি উত্থাপন - করিয়াছেন, তখনই তিনি বলিয়াছেন,—“সমগ্ৰ পৃথিবীর মধ্যে যদি এমন দেশ জামায় কখনও সন্ধান করিতে হয়—প্রকৃতি যে দেশ ধনৈশ্বর্ষ্যে শক্তি-সৌন্দর্ঘ্যে পরিপূর্ণ করিয়া রাখিয়াছেন—এমন কি যে দেশ মর্ত্যে অমরপুরী বলিলেও অত্যুক্তি হয় না—আমি যুক্তকণ্ঠে বলিব,—সে দেশ ভারতবর্ষ। যদি কেহ আমায় জিজ্ঞাসা করেন—কোন আকাশের কোন প্রদেশে জ্ঞান-স্ফূৰ্ত্তিতে মানসিক বৃত্তিনিচয় পুর্ণ-পরিস্ফুট হইয়াছিল,—আর কোন দেশ জীবন-সমস্তার কঠোর প্রতিজ্ঞার প্রথম সমাধানে সমর্থ হইয়াছিল, এবং সেই সমাধানে প্লেটো ও কান্ট প্রমুখ পাশ্চাত্য দার্শনিকগণের গবেষণাও প্রতিহত হইয়া আছে,ভাহা হইলে, জামি দেখাইয়া দিব-সে দেশ এই ভারতবর্ষ ! যদি কেহ আমায় জিজ্ঞাসা করেন—আমাদের ইহলৌকিক ও পারলৌকিক জীবন সুগঠিত করিবার জন্ত পৃথিবীর কোন দেশের কোন ভাষা হইতে প্রকৃত তথ্য সংগ্ৰহ করিতে পারি ;–প্রধানতঃ আমর} গ্রীক, রোমান এবং সেলিটিক-জাতীয় ইহুদীদিগের নিকট শিক্ষণপ্রাপ্ত হইলেও,