পাতা:প্রবন্ধ পুস্তক-বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.djvu/১৩৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১২৪ প্রাচীন ভারতবর্ষের রাজনীতি। স্বর্ণাঙ্গরে লিপিবদ্ধ করিয়া কাৰ্য্যালয়ে কাৰ্য্যালয়ে প্রকটত করুন। তৎপরে,— “কৃষীবলের আপনার পরোক্ষে প্রকৃত ব্যবহার করিয়া থাকে? কারণ প্রভুর প্রতি অকৃত্রিম স্নেহ ন থাকিলে এরূপ হওয়া নিতান্ত অসম্ভব সন্দেহ নাই।” বিলাতী শাসনকর্তা কিম্বা তাহাদিগের দেশী সমালোচক, কেহই অদ্যাপি এ কথার সারবত্তা অনুভূত করিতে সক্ষম হইলেন না। তৎপরে— “অনারব্ধ কার্য্যের, পরীক্ষার্থ ধৰ্ম্মজ্ঞ শাস্ত্রকোবিদ বিচক্ষণ পরীক্ষক সকল ত নিযুক্ত করিয়া থাকেন ?” • ইংরেজের এই কথার সম্যক প্রকারে অনুবর্তী। সকল কাৰ্য্যের পূৰ্ব্বেই কমিটি নিযুক্ত হইয়া থাকে । সকল কাৰ্য্য করিবার পূর্বে ইংরেজের এক একটা কমিটী নিযুক্ত করেন কেন ? এ কথা যিনি জিজ্ঞাসা করিবেন, তাহাকে দেয় উত্তর উল্লিখিত নারদ বাক্যে আছে । তৎপরে— “সহস্র মুর্থ বিনিময় দ্বারা এক জন পণ্ডিতকে ত এর করিয়া থাকেন ?” আমরা এই কথাটির অনুমোদন করি না। সূর্থের দ্বারাই পৃথিবীর কার্য নির্বাহ হইতেছে—পণ্ডিত কোন কাজে লাগে ? মিল পার্নিমেণ্টে কৃতকাৰ্য্য হইতে পারলেন না,—ওয়েষ্টমিষ্টর কর্তৃক পরিত্যক্ত হইলেন। লাপ্লাসকে বোনাপার্টি পণ্ডিতদেখিয় উচ্চপদে অতিষিক্ত করিয়াছিলেন–কিন্তু লাপ্পাস কাৰ্য সম্পাদনে অক্ষম হইয়া দূরীভূত হইলেন। প্রবাদ আছে, একজন ভট্টাচাৰ্য্য বন্ধ্য। ভাৰ্য্যার বিনিয়মে দুগ্ধবতী গো লইয়া আসিয়াছিলেন। সেইরূপ রাজপুরুষেরা অপ্রিয়বাদী, আত্মমতভক্ত, পণ্ডিতের বিনিময়ে আজ্ঞাকারী মুর্থই গ্রহণ করিয়া থাকেন।