পাতা:প্রবন্ধ পুস্তক-বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.djvu/১৩৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


প্রাচীন ভারতবর্ষের রাজনীতি। ১২৯ না—অনেকেই অন্নাভাবে শীর্ণ—বীজাভাবে ভরসাশূন্য। যে পায় সেও দ্বিপদ বৃদ্ধিতে নহিলে পায় না। অনেকে বলিবেম যে, যে অর্থশাস্ত্র অনবগত সেই রাজাকে মহাজনি করিভে পরামর্শ দিবে-রাজার ব্যবসায়, সমাজের অনিষ্টকারক। অর্থশাস্ত্রঘটিত যে আপত্তি তাহ আমরা অবগত আছি এবং মহাভারতকারও অবগত ছিলেন। এই জন্যই নারদের ঐ বাক্যমধ্যেই তিনট গুরুতর নিয়ম সন্নিবিষ্ট আছে। প্রথম—“ আবশ্যক হইলে’ ঋণ দিতে বলিতেছেন—ইহার অর্থ যে যাহাকে না দিলে চলে না তাহাকেই দিবেন। অতএব যে মহাজনের নিকট ঋণ পাইতে পরিবে, তাহাকে ঋণ দেওয়া এই কথায় প্রতিষিদ্ধ হইল। সুতরাং রাজ ব্যবসায়ী হইলেন না। যাহাকে রাজা না দিলে সে দুর্দশাগ্রস্ত হইবে, তাহাকেই দিবেন। দ্বিতীয়তঃ “অনুগ্রহ স্বরূপ” দিবেন—অর্থাৎ ব্যবসারীর ন্যায় লাভাকাঙ্ক্ষায় দিবেন না। তবে পাদিক বৃদ্ধির কথা কেন ? এ নিয়ম ন৷ করিলে যে সে নিম্প্রয়োজনেও ঋণ লইবার সম্ভাবনা—বঞ্চক জাতি সৰ্ব্বত্রই আছে। আর ঋণ দিলেই কতক আদায় হয়, কতক আদায় হয় না। যদি বৃদ্ধির নিয়ম না থাকে তবে রাজাকে ক্ষতিগ্রস্ত হইতে হয়। ক্ষতি স্বীকার করিয়া রাজাকোষ হইতে ঋণ দিতে হইলে রাজ্য চলা ভার। তৃতীয়তঃ “শতংখ্যক” ঋণ দিবে—ইহার উদ্ধ দিবে না। অর্থাৎ প্রজার জীবননিৰ্ব্বাহার্থে যে পৰ্য্যন্ত প্রয়োজন, তাহাই রাজা ঋণস্বরূপ দিতে পারেন। ততোধিক ঋণদান ব্যবসারীর কাজ। এই তিনটী নিয়মের দ্বারা অর্থশাস্ত্রবেত্তাদিগের আপত্তির মীমাংসা হইতেছে। প্রাচীন হিন্দুরা অর্থশাস্ত্র বিলক্ষণ বুঝিতেন । নিম্নোদ্ভূক্ত নীতি, ইংরেজের এপর্যন্ত শিবিলেন না। না শিখাতে র্তাহাদিগের ক্ষতি হইতেছে ;–