পাতা:প্রবন্ধ পুস্তক-বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.djvu/১৪৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


> లిg প্রাচীন এবং নবীনা। মহস্থ কীৰ্ত্তন কালে, এই সকল কথা বল প্রাচীন প্রথা আছে এজন্য আমরাও এ কথা বললাম ; কিন্তু এ কথা গুলি যাহারা ব্যবহার করেন তাহাদিগের অন্তরিক ভাব এই যে পুরুষই মনুষ্যজাতি ; যাহা পুরুষের পক্ষে শুভাশুভ বিধান করিতে সক্ষম, তাহাই গুরুতর বিষয় ; স্ত্রীগণ, পুরুষের শুভাশুভ বিধায়িনী বলিয়াই তাহাদিগের উন্নতি বা অবনতির বিষয় গুরুতর বিষয় । বাস্তবিক, আমরা সেরূপ কথা বলি না । আমাদিগের প্রধান কথা এই, যে স্ত্রীগণ সংথ্যায় পুরুষগণের তুল্য, বা অধিক ; তাহারা সমাজের অৰ্দ্ধাংশ। তাহারা পুরুষগণের শুভাশুভবিধায়িনী হউন, বা না হউন, তাহাদিগের উন্নতিতে সমাজের উন্নতি ; যেমন পুরুষদিগের উন্নতিতে সমা জের উন্নতি, ঠিক সেই পরিমাণে স্ত্রীজাতির উন্নতিতে সমাজের উন্নতি, কেন না স্ত্রীজাতি সমাজের অৰ্দ্ধেক ভাগ । স্ত্রী পুরুষের সস্থান ভাগের সমষ্টিকে সমাজ বলে ; উভয়ের সমান উন্নতিতে সমাজের উন্নতি । এক ভাগের উন্নতি সমাজসংস্করণের মুখ্য উদ্দেশ্য, তাহার উন্নতিসহায় বলিয়াই অন্যভাগের উন্নতি গৌণ উদ্দেশ্য, এ কথা নীতিবিরুদ্ধ । কিন্তু সমাজের নিয়স্তৃবর্গ সৰ্ব্বকালে সৰ্ব্বদেশে, এই ভ্ৰমে পতিত । তাহারা বিধান করেন ষে স্ত্রীলোকের এইরূপ এইরূপ আচরণ করিবে – কেন করিবে ? উত্তর, তাহা হইলে, পুরুষের অমুক মঙ্গল ঘটবে, বা অমুক অমঙ্গল নিবারিত হইবে। সমাজবিধাতুদিগের সর্বত্র এইরূপ উক্তি ; কোথাও এ উদ্দেশ্য স্পষ্ট কোথাও অস্পষ্ট, কিন্তু সৰ্ব্বত্রই বিদ্যমান। এই জন্যই সৰ্ব্বত্র স্ত্রীজাতির সতীত্বের জন্য এত পীড়াপীড়ি ; পুরুষের সেই ধৰ্ম্মের অভাব, কোথাও তত বড় গুরুতর দোষ বলিয়া গণনীর নহে। বাস্তবিক নীতিশাস্ত্রের স্বাভাবিক মূল ধরিতে গেলে