পাতা:প্রবন্ধ পুস্তক-বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.djvu/১৪৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


প্রাচীন এবং নবীন। రి(t এমত কোন বিষয়ই পাওয়া যায় না, যদার স্ত্রীকৃতঝভিচার পুরুষকৃত পরদারগ্রহণ অপেক্ষ গুরুতর দোষ বিবেচনা করা যার। পাপ দুই সমান। এক পুরুযভাগিনী স্ত্রীতে পুরুষের যে স্বাভাবিক অধিবার, এক স্ত্রীভাগী পুরুষে স্ত্রীলোকের ঠিক সেই স্বাভাবিক অধিকার, কিছু মাত্র নূ্যন নহে। তথাপি পুরুষে এ নিয়ম লঙ্ঘন করিলে, তাহ বাৰুগিরি মধ্যে গণ্য ; স্ত্রীলোক এ দোষ করিলে, সংসারের সকল মুখ তাহার পক্ষে বিলুপ্ত হয় ; সে অধমের মধ্যে অধম বলিয়া গণ্য হয়, কুষ্ঠগ্রস্তের অধিক অস্পৃশ্যা হয়। কেন ? পুরুষের সুখের পক্ষে স্ত্রীর সতীত্ব আবশ্যক। স্ত্রীজাতির মুখের পক্ষে ও পুরুষের ইন্দ্রির ংযম অবশ্যক, কিন্তু পুরুযই সমাজ, স্ত্রীলোক কেহ নছে । অতএব স্ত্রীর পাতিব্ৰতাচুতি গুরুতর পাপ বলিয়া সমাজে বিহিত হইল ; পুরুষের পক্ষে নৈতিক বন্ধন শিথিল রাইল । সকল সমাজেই স্ত্রীজাতি পুরুষপেক্ষ অনুন্নত ; পুরুষের আত্মপক্ষাতিতাই ইহার কারণ। পুরুষ বলিষ্ঠ, সুতরাং পুরুষই কার্যকর্তা ; স্ত্রীজাতিকে কাজে কাজেই তাহাদিগের বাহুবলের অধীন হইয়া থাকিতে হয়। আত্মপক্ষপাতী পুরুষগণ, যতদূর আত্মমুখের প্রয়োজন, ততদূর পর্যন্ত স্ত্রীগণের উন্নতির পক্ষে মনোযোগী ; তাহার তাতিরেকে তিলাৰ্দ্ধ নহে। এ কথা অন্যান্য সমাজের অপেক্ষা আমাদিগের দেশে বিশেষ সত্য। প্রাচীন কালের কথা বলিতে চাহি না ; তৎকালীন স্ত্রীজাতির চিরাধীনতার বিধি ; কেবল অবস্থা বিশেষ ব্যতীত স্ত্রীগণের ধনাধিকারে নিষেধ : স্ত্রী, ধনাধিকারিণী হইলেও স্ত্রীর দান বিক্রয়ে ক্ষমতার অভাব ; সহমরণ বিধি ; বহু কাল প্রচলিত বিধবার বিবাহ নিষেধ ; বিধবার পক্ষে প্রচলিত কঠিন নিয়ম সকল, স্ত্রীপুরুষে গুরুতর বৈষম্যের প্রমাণ। তৎপরে মধ্যকালেও স্ত্রীজাতির