পাতা:প্রবন্ধ পুস্তক-বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.djvu/১৫১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Ᏹ88 প্রাচীন এবং নবীনা। একটি বিশেষ কারণ অসম্পূর্ণ শিক্ষা। লেখা পড়া বা অন্য প্রকারের শিক্ষ। তাহারা যাহা কিঞ্চিৎ প্রাপ্ত হয়েন, তাহাতেই বুঝিতে পারেন যে প্রাচীন ধৰ্ম্মের শাসন অমূলক। অতএব তাহাতে বিশ্বাস তারাইয়া, ধৰ্ম্মের যে বন্ধন ছিল, তাহ হইতে বিমুক্ত হয়েন। তাহার স্থানে আর নূতন বন্ধন কিছুই গ্রন্থিবদ্ধ হইতেছে না। আমরা লেখা পড়ার নিনা করিতেছি না। ধৰ্ম্ম ডিন্ন বিদ্যার অপেক্ষা মূল্যবান বস্তু যে পৃথিবীতে কিছুই নাই, ইহা আমরা ভুলিয়া যাইতেছি না। তবে বিদ্যার ফল ইহা সৰ্ব্বত্র ঘটিয়া থাকে, যে তাহাতে চক্ষু ফুটে, মিথ্যাকে মিথ্য বলিয়া বোধ হয়, সত্যকে সত্য বলিয়া জানা যায় । বিদ্যার ফলে লোকে, প্রাচীন ধৰ্ম্মশাস্ত্রঘটিত ধৰ্ম্মের মূলের অলীকত্ব দেখিতে পায় ; প্রাকৃতিক যে সত্য ধৰ্ম্ম, তাহ সত্য বলিয়া চিনিতে পারে। অতএব বিদায় ধৰ্ম্মের ক্ষতি নাট, বরং বৃদ্ধি আছে। সচরাচর পণ্ডিতে যাদৃশ ধৰ্ম্মিষ্ট, মুখে তাদৃশ পাপিষ্ঠ হয় । কিন্তু অল্প বিদ্যার দেয এই যে ধৰ্ম্মের মিথ্য মূল তদ্বারা উচ্ছিন্ন হয় ; অথচ সত্য ধৰ্ম্মের প্রাকৃতিক মূল ংস্থাপিত হয় না। সেটুকু কিছু অধিক জ্ঞানের ফল। পরোপ কার করিতে হইবে, এট যথার্থ ধৰ্ম্মনীতি বটে। মূর্থেও ইহা জানে, এবং মূখদিগের মধ্যে ধৰ্ম্মে যাহাদের মতি আছে, তাহারাও ইহার বশবৰ্ত্তী হয়। তাহার কারণ এই যে এই নৈতিক আজ্ঞা প্রচলিত ধৰ্ম্মশাস্ত্রে উক্ত হইয়াছে ; মুখের তাহাতে দৈবাত্তা বলিয়া বিশ্বাস আছে । দৈষবিধি লঙ্ঘন করিলে ইহলোকে ও পরলোকে ক্ষতিপ্রাপ্ত হইতে হইবে বলিয়া মূৰ্খ সে নীতির বশবৰ্ত্তা, পণ্ডিতও সে নীতির বশবর্তী, কিন্তু তিনি ধৰ্ম্মশাস্ত্রোক্ত বলিয়৷ তদুক্তির অনুসরণ কয়েন না। তিন্থি জানেন যে ধৰ্ম্মের কতকগুলি প্রাকৃতিক নিয়ম আছে তাহ।