পাতা:প্রবন্ধ পুস্তক-বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.djvu/৭৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


や8 সাংখ্যদর্শন। ভাবে বেদকে মনুষ্যপ্রণীত বলিয়া নির্দেশ করা ফঁাহার ইচ্ছা কি না, নিশ্চিন্ত বুঝা যায় না । (২৩) বৈশেষিকের বলেন, বেঙ্গ ঈশ্বরপ্রণীত। কুসুমাঞ্জলিকর্তা উদয়নাচার্যোর এই মত । - এই সমস্ত শাস্ত্রের আলোচনা করিয়া দেখা যায় যে, কেহ বলেন বেদ নিত্য এবং অপৌরুষেয় ; কেহ বলেন বেদ স্বই এবং ঈশ্বরপ্রণীত। ইহা ভিন্ন তৃতীয় সিদ্ধান্ত হইতে পারে না। কিন্তু সাংখ্য প্রবচনকারের মত স্বষ্টি ছাড়া । তিনি প্রথমতঃ বলেন, যে বেদ কদাপি নিত্য হইতে পারে না, কেন না বেদেই তাহার কার্য্যত্বের প্রমাণ আছে—যথা “ স তপোছতপাত তস্মাৎ তপস্তেপান ত্রয়ো বেদা অজায়স্ত ।” যেখানে বেদেই বলে বে এই এই রূপে বেদের জন্ম হইয়াছিল,সেখানে বেদ কদাপি নিত্য এবং অপৌরুষেয় হইতে পারে না। কিন্তু যাহা অপৌরুবেয় নছে, তাহ অবশ্য পৌরুষেয় হইবে। কিন্তু সাংখ্যকারের মতে বেদ অপৌরুষেয় নহে, পৌরুষেয়ও নহে। পুরুষ, অর্থাৎ ঈশ্বর নাই, বলিয়া তাহা পৌরুষেয় নহে। সাংখ্যকার আরও বলেন, যে বেদ করিতে যোগ্য যে পুরুষ তিনি হয় মুক্ত নয় বদ্ধ। যিনি মুক্ত তিনি প্রবৃত্তির অভাবে বেদস্বজন করবেন ন ; যিনি বদ্ধ তিনি অসৰ্ব্বজ্ঞ বলিয়া তৎপক্ষে অক্ষম। তবে বেদ পৌরুদের নহে। অপৌরুষেয়ও নহে। তাছা কি কখন হইতে পায়ে ? সাংখ্যকার বলেন হইতে পারে যথা জঁজুরাদি। (৫,৮৪) যাহার হিন্দুদর্শনশাস্ত্রের নাম গুনিলেই মনে করেন, তাহাতে সৰ্ব্বত্রই আশ্চৰ্য্য বুদ্ধির কৌশল, তাহাদিগের ভ্রম নিয়ারণার্থ এই কথার বিশেষ উল্লেখ করিলাম। সাংখ্যকারের বুদ্ধির তীক্ষ্ণতাও বিচিত্র, ভ্রাস্তিও বিচিত্র। সাংখ্যকার যে এমন রহস্যজনক ভ্রাস্তিতে অনবধানত প্রযুক্ত পতিত ইয়া