পাতা:প্রবন্ধ পুস্তক-বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.djvu/৮৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


qや হিন্দুধৰ্ম্মের নৈসর্গিক মূল । —তাহার কারণ মাধ্যাকর্ষণ তোমার শক্তির প্রতিবন্ধকতা করিতেছে । শক্তির প্রতিবন্ধক না থাকিলে, সকলেই সৰ্ব্বশক্তিমান হইত। ঈশ্বর সর্বশক্তিমান নহেন, এই কথায় প্রতি পন্ন হইতেছে,যে তাতার শক্তির প্রতিবন্ধক কেহ বা কিছু আছে। সেই প্রতিবন্ধক কি ? কোন, বিয়ের জন্য সৰ্ব্বজ্ঞ তাহার অভিপ্রেত কৌশল নির্দোষ করিতে পারেন নাই ? এই সম্বন্ধে দুইটি উত্তর হইতে পারে। কেহ বলিতে পারেন যে, দেখ, ঈশ্বর নিৰ্ম্মাতা মাত্র, তিনি যে স্রষ্টা এমত প্রমাণ তুমি কিছু পাও নাই। তুমি তাছার নির্মাণ প্রণালী দেখিয়াই তাহার অস্তিত্ব সিদ্ধ করিতেছ ; কিন্তু নিৰ্ম্মাণ প্রণালী হইতে কেবল নিৰ্ম্মাতাই সিদ্ধ হইতে পারেন, স্ৰষ্ট সিদ্ধ হইতে পারেন না। ঘটের নিৰ্ম্মাণ দেখিয়া তুমি কুম্ভকারের অস্তিত্ব সিদ্ধ করিতে পার ; কিন্তু কুম্ভকারকে মৃত্তিকার স্বষ্টিকারক বলিয়৷ তুমি সিদ্ধ করিতে পার না। অতএব এমন হইতে পারে যে ঈশ্বর স্রষ্টা নহেন ; কেবল নিৰ্ম্মত। ইহার অর্থ এই যে যে সামগ্রীকে গঠন দিয়া তিনি বর্তমানবস্থাপন্ন করিয়াছেন, সে সামগ্ৰী পূৰ্ব্ব হইতে ছিল—ঈশ্বরের স্বঃ নহে। ঘট দেখিয়। কেবল ইহাই সিদ্ধ হয় যে কোন কুন্তকার মৃত্তিক লইয়৷ ঘট নিৰ্ম্মাণ করিয়াছে। মুক্তিক তাহার পূৰ্ব্ব হইভে ছিল, কুম্ভকারের স্বষ্ট নহে, এ কথা বল বিচারসঙ্গত হইবে । সেই অম্বষ্ট সামগ্রীই বোধ হয় ঐশীশক্তির সীমা নির্দেশক—র্তাহার শক্তির প্রতিবন্ধক । সেই জাগতিক জড়পদার্থের এমন কোন দোষ আছে, যে তজ্জন্য উহা ঈশ্বরেরও সম্পূর্ণরূপে আয়ত্ত নহে। সেই কারণে বছ কৌশলময় এষং বহু শক্তিসম্পন্ন ঈশ্বরও আপনকৃত কাৰ্য্য সকল সম্পূর্ণ এবং দোষশূন্য করিতে পারেন নাই । 饑,