পাতা:প্রবাসী (সপ্তত্রিংশ ভাগ, প্রথম খণ্ড).djvu/৪১৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

ভিজাত ও সাধারণ লোক এবং মধ্যবিত্ত ও সাধারণ লাকের মধ্যে যে ভেদ্ৰ—তাহা হইতে উৎপন্ন যুদ্ধ বর্তমান tষ্টীয় শতাব্দীতে অশ্রুতপূৰ্ব্ব ভীষণ আকার ধারণ করিয়াছে। ই বিরোধের প্রকৃত অবসান, বাহিরে অবসান এবং h মুষের হৃদয়ে অবসান, কেমন করিয়া হইবে, জানি না। কৈবল আশা করি মাত্র, ভগবানের দিকে চাহিয়া। ! জ্ঞানে, ধৰ্ম্মে, বুদ্ধিতে কেহ উন্নত হইতে চাহিলে মন্ত কাহাকেও বিদুমাত্রও বঞ্চিত না করিয়া তিনি উন্নত হইতে পারেন। এক জন বুদ্ধিমান, জ্ঞানী, সত্যবাদী, সাত্বিক, স্যায়পরায়ণ, নানা সদগুণশালী হইলে তাহ অন্ত কাহারও জ্ঞানী ও সগুণশালী. হওয়ার ব্যাঘাত জন্মায় না। আধ্যাত্মিকতা, সাত্ত্বিকতা, মনুষ্যত্ব, যে-কোন সদগুণ, জড়বস্তু নহে, যে, কেহ বা কোন শ্রেণীর লোকেরা তাহা অর্জন করিলে অন্যের ভাগে কম পড়িয়া যাইবে । সুতরাং ধৰ্ম্মজগতে সকলেই যথাসাধ্য উন্নত এবং আত্মা ও হৃদয়মনের সম্পংশালী হইতে পারেন। কিন্তু জড়পদার্থের আকারে যত রকম সম্পত্তি আছে, তাহ সীমাবদ্ধ। ভূমি, শস্ত, টাকাকড়ি, বস্ত্র, অলঙ্কার, তৈজসপত্র, ঘরবাড়ী, যানবাহন, পশু প্রভৃতি সব মানুষকে সমান সমান করিয়া ভাগ করিয়া দিবার কোন উপায় এপর্য্যন্ত আবিষ্কৃত হয় নাই। রুশিয়াতেও সকলের আয় সমান সমান নহে, সকলের সম্পত্তি সমান নহে ; কাহারও কম, কাহারও বেশী। সৰ্ব্বত্র এইরূপ। জড়সম্পত্তির প্রকৃতিই এইরূপ, যে, এক জন বেশী পাইলে অন্য জনের ভাগে কম পড়ে। কিন্তু আত্মিক সম্পদের প্রকৃতি এরূপ নয়, যে, এক জন ধাৰ্ম্মিক হইলে অন্তকে অধাৰ্ম্মিক বা কম ধাৰ্ম্মিক হইতে হইবে, এক জন বীর হইলে অন্তকে কাপুরুষ হইতে হইবে, এক জন সত্যবাদী হইলে অন্যকে মিথ্যাবাদী হইতে হইবে, এক জন সংযমী ও মিতাচারী হইলে অন্তকে উচ্চুম্বল হইতে হইবে,”। প্রত্যেকেই অপর কাহাকেও বঞ্চিত না করিয়া ধাৰ্ম্মিক, বীর, সত্যবাদী, সংযমী, ...হইতে পারেন, হইবার চেষ্টা করিতে পারেন। দারিদ্র্য যাহাতে না-থাকে, অস্ততঃ খুব কমে, তাহা আমরা চাই । প্রত্যেক মানুষের মুস্থ শরীরে বাচিয়া থাকিবার এবং জ্ঞান ও আনন্দ লাভ করিবার অধিকার যাহাতে কাৰ্য্যতঃ স্বীকৃত হয়, আমরা এরূপ সামাজিক ও 億8ー為br বিবিধ প্রসঙ্গ—কংগ্রেস ও হিন্দুসমাজ g43 -ബ് রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা চাই। কৃষি-শিল্প-বাণিজ্য দ্বারা উৎপাদিত ধনের ন্যায্য বণ্টন আমরা চাই । ভূম্যধিকার ও ধনিকের বিলাসিতার ব্যবস্থা পৰ্য্যস্ত হইতে পারিবে, আর কৃষক ও প্রমিকের ভাগে পড়িবে কণ্ঠ অস্বাস্থ্যকর বাসগৃহ, অতিরিক্ত পরিশ্রম, অনুপযুক্ত খাদ্য ও বস্ত্র, রোগে চিকিৎসার অভাব, এবং সস্তানদের ষথেষ্ট শিক্ষার স্বযোগের অভাব—এরূপ সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার বিলোপসাধন করিতে হুইবে । কিন্তু এই বিলোপসাধনের চেষ্টা ঈর্ষ্যাম্বেষ পরিহার করিয়া করিতে হইবে। জড়সম্পদকে পরমার্থনা ভাবিয়া আত্মিক সম্পদ ও হৃদয়মনের ঐশ্বৰ্য্যকে পরমার্থ মনে করিতে হইবে। দারিত্র্য, রোগ, নিরানন্দ ও অজ্ঞতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম এইরূপ মনের ভাব লইয়া না চালাইলে সমাজতন্ত্রবাদী ও সাম্যবাদীরা যে সংগ্রাম চালাইতেছেন তাহাতে জগতে অশাস্তি বাড়িতেই থাকিবে। ধৰ্ম্মজগতে, কম হইলেও, মিলনের ভাব দেখা যাইতেছে। গত শতাব্দীর নব্বইয়ের কোটা হইতে ধৰ্ম্মসমূহের পালেমেন্ট সৰ্ব্বধৰ্ম্মমতের কংগ্রেস প্রভৃতি নামের ধৰ্ম্ম সম্বন্ধীয় সভায় নানা ধৰ্ম্মের লোকেরা সমবেত হইয়া নিজ নিজ ধৰ্ম্মমত শিষ্টভাবে বর্ণনা ও ব্যাখ্যা করিতেছেন। কিন্তু সাম্রাজ্যবাদী ও গণতন্ত্রবাদী, ধনিক ও শ্রমিক, পুঁজিবাদী ও শ্রমিকনেতৃত্ববাদী, পুজিবাদী ও সাম্যবাদী, ফাপিষ্ট ও পুজিবাদী —সম্ভাবে ইহাদের কোন পালেমেন্ট বা কংগ্রেল জগডে এখনও হয় নাই। কখনও হইবে কি ? ংগ্রেস ও হিন্দুসমাজ কংগ্রেসের সহিত কোন ধৰ্ম্মসম্প্রদায়েরই বিরোধ নাই। কংগ্রেস ইচ্ছাপূৰ্ব্বক বা জ্ঞাতসারে কোন সম্প্রদায়ের ক্ষতিকর ও অকল্যাণকর কিছু করেন না । কিন্তু ইহা সত্য, যে, যেসকল প্রদেশে হিন্দুরা সংখ্যায় নূন, সেখানে হিন্দুদের অসুবিধ, হিন্দুদের প্রতি অবিচার ও অত্যাচার, হিন্মুনারীদের প্রতি অত্যাচার প্রভৃতির প্রতিকারের জন্য কংগ্রেস বিশেষ কিছু করেন না। ( আমরা যাহা জানি তাহা হইতে আমাদের ধারণ যেরূপ হইয়াছে তাহাই লিখিলাম। আমরা